বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা কল্পনাও করা যায় না। এজন্য মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে সংস্কারের কথা বলেছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা এই সংস্কার বাস্তবায়ন করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করব।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার ও নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ চার দফা দাবিতে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি নীলফামারীর পাটগ্রাম সফর করেন এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে যান। রংপুরের জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে এবং অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের মতো কোনো প্রচেষ্টা সফল হলে তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ‘মব কালচার’ চলছে, তবে জামায়াতের কোনো কর্মী বা সমর্থক এতে জড়িত নয়। ১৯৭২ সাল থেকে দেশে মব পরিস্থিতি চলমান। আমরা মবের ঘোর বিরোধী।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সাম্প্রতিক সহিংসতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ডা. শফিকুর বলেন, ‘মাস্তানতন্ত্র, কালো টাকার খেলা বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চলবে না। জনগণের ভোটে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচিতদের আমরা স্বাগত জানাব। ২০২৪ সালের জনবিস্ফোরণ প্রমাণ করেছে, কোনো শক্তি জনগণের ইচ্ছাকে দমাতে পারে না। ফ্যাসিবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা সংখ্যালঘুদের জন্য মায়াকান্না করে, তারাই তাদের সম্পদ লুট করেছে। আমরা সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ মানি না। এ দেশের প্রত্যেক নাগরিক সম্মানিত এবং আমরা সংবিধান অনুযায়ী তাদের পাশে থাকব।’
তিনি দেশে মদিনার আদর্শ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শরিয়ার নাম শুনলে কারও গা শিউরে ওঠে, কারণ তা দুর্নীতি, অন্যায় ও শোষণের পথ বন্ধ করে। আমরা এমন দেশ চাই।’
শহীদ আবু সাঈদকে গণঅভ্যুত্থানের আইকনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি রংপুরের গর্ব। ২৪ জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। বিচার না হলে বাংলাদেশ জঙ্গলে পরিণত হবে।’
১৭ বছর পর রংপুরে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা ও বড় ভাই রমজান আলীসহ অন্যান্য নেতারা। সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগরের আমির এটিএম আজম খান।
জনসভায় রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।