জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এটা গণঅভ্যুত্থানের বাংলাদেশ। তাই আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করব। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি না। আমরা উন্নয়ন বলতে শুধু ঢাকার উন্নয়ন বুঝি না। আমরা মনে করি, ঠাকুরগাঁওয়ের মতো প্রান্তিক জেলাগুলো দেশের উন্নয়নে একই কাতারে এসে দাঁড়াবে, সেটাই উন্নয়ন। দেশে আঞ্চলিক বৈষম্য রেখে উন্নয়ন কোনো উন্নয়ন নয়।’
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে আয়োজিত এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই পদযাত্রা শুরু করেছি। বিচার, সংস্কার এবং নতুন সনদের বাস্তবায়নে জনগণকেই আমাদের একমাত্র শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও কৃষকদের জেলা, দেশে কৃষক নিপীড়ন রয়েছে। আমরা সেই দেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো গণনিপীড়ন থাকবে না।’ সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম সবক্ষেত্রেই এখানে উপেক্ষা চলছে।
কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না, শ্রমিকরা পায় না তাদের ন্যায্য মজুরি। বাজেট বরাদ্দেও ঠাকুরগাঁওকে উপেক্ষা করা হয়।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তরুণ সমাজ যে আশা জাগিয়েছিল, তা গত এক বছরে বাস্তব রূপ পায়নি। বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের মতো মৌলিক দাবিগুলো এখনো অধরা। তাই আমরা ৬৪ জেলায় যাব, জনগণের মত শুনে একটি গণতান্ত্রিক ইশতেহার তৈরি করব।’
তিনি জানান, শহীদ আবু সাঈদের কবর থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় এনসিপির প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতা অংশ নিয়েছেন। জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নের সংগ্রামে আমরা পিছপা হব না।
সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা রফিকুল ইসলাম কনক, আব্দুল মুনীম, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আসাদুল্লাহ গালিব, শ্রমিক উইং নেতা আকিব উদ্দিন ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা প্রমুখ।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যরা।
গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি:
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে এক পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ। সেখানে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের যে স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। যারা অভ্যুত্থান সফল করেছিল, তারা এখনো জাগ্রত ও রাজপথে আছে। আমরা দখলদারিত্ব চাই না। দখলদারিত্ব ও পুরনো সন্ত্রাসের রাজত্ব ফিরে আসতে দেব না। তিনি বলেন, দিনাজপুরের কৃষক যে খাদ্য উৎপাদন করে সেই খাদ্য দিনাজপুরের মানুষের জন্য খরচ করতে হবে। দিনাজপুরে উৎপাদিত খাদ্যশস্য দিনাজপুরের মানুষের কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাব না। জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে। বাংলাদেশের নতুন সংবিধানে জুলাই ঘোষণাপত্র থাকতে হবে। সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, যে সংবিধান মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে না সে সংবিধান আমরা চাই না। মৌলিক সংস্কারের পর নির্বাচনে যেতে হবে। আর এ জন্য একটি নতুন সংবিধানের প্রয়োজন।
দিনাজপুরে পৌঁছে এনপিসি নেতারা দিনাজপুরের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে জুমার নামাজের পর ঠাকুরগাঁও থেকে পীরগঞ্জ, বীরগঞ্জ ও দশমাইল হয়ে দিনাজপুর শহরে প্রবেশ করেন নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির নেতারা। তারা বিকেল পৌনে ৫টায় দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ীর বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারে এসে পৌঁছেন।