পাবনায় জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার জেলা শহরে পদপ্রাপ্তদের আনন্দ মিছিল ও পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
সকালে শহরের মহিষের ডিপো এলাকা থেকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হাসান সুইট, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রানার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে যুবদলের পদবঞ্চিত পক্ষের নেতাকর্মীরা। একই সময় নতুন কমিটির আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা ও সদস্য সচিব মনির আহমেদের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে এই কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন কমিটির নেতাকর্মীরা। মিছিলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মো. মাসুম বগা, সাবেক সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমানসহ বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুসারী নেতাকর্মীরা অংশ নেন। উভয়পক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে শহরে থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে দুপক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে জেলা পরিষদ চত্বরে পথসভা করে পদবঞ্চিত পক্ষ।
পথসভায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হাসান সুইট বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটি সভাপতি ও সম্পাদক ঘোষণার তিন বছর পর জেলা যুবদলের ঘোষিত কমিটিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় থাকা মাদককারবারি, চাঁদাবাজ, বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ, এই কমিটিই অবৈধ। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না।’ অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে যোগ্যদের মূল্যায়ন করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
তবে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে যোগ্যতার মূল্যায়ন করে নতুন কমিটি করা হয়েছে বলে জানান জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা। তিনি বলেন, ‘কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা তসলিম হাসান সুইটের পুরনো অভ্যাস। অতীতেও সে সিনিয়র নেতাদের লাঞ্ছিত করেছে। নির্বাচনের আগে বিএনপিকে বিতর্কিত করে অন্য কোনো দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তারা অসত্য অভিযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে।