জামালপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক ছাড়াই নার্স দিয়ে সন্তান প্রসবের চেষ্টার পর মৃত নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিশুর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক ছাড়াই দায়িত্বরত নার্স টানাহেঁচড়া করে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। প্রসূতি নরিন জান্নাত (২১) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা হাসপাতালটি ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে সংশ্লিষ্ট নার্সসহ দুজনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ভোরের দিকে জামালপুর পৌরশহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার নগর মাতৃসদন হাসপাতালে ওই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টার দিকে নবজাতকের স্বজন ও উত্তেজিত জনতা হাসপালের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রসব ব্যথা নিয়ে ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নার্স শিরিন আক্তার ও আয়া বন্যা আক্তার (৩৪) নামে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রসূতি নরিন জান্নাত পৌরশহরের বেলটিয়া এলাকার মোকাদ্দেস হোসেনের মেয়ে ও সোহেল মিয়ার স্ত্রী। তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রোগীর স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার নরিনের প্রসব ব্যথা ওঠে। পরে তাকে নগর মাতৃসদন হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাকে ভর্তি করে নেয়। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। ফলে মায়ের গর্ভে বাচ্চার অবস্থান দেখার কোনো উপায় ছিল না। গভীর রাতে প্রসূতির প্রচ- ব্যথা ওঠে। সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। ভোরের দিকে নার্স কোনো এক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে রোগীর পরীক্ষার রিপোর্টগুলো মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেয়। পরে নার্স নিজেই সন্তান প্রসবের চেষ্টা করেন। অনেকক্ষণ টানাহেঁচড়ার পর মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। নার্স-আয়ার ভুলের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
নরিনের স্বামী সোহেল আনসারী বলেন, ‘বারবার ডাক্তারকে খবর দেওয়ার কথা বলা হলেও কোনো ডাক্তার আসেননি। দুজন নার্স ও একজন বয় মিলে চেষ্টা করতে থাকেন বাচ্চা প্রসবের। প্রসব করানোর জন্য তারা প্রসূতির বিভিন্ন জায়গায় কাটাছেঁড়া করেন। কিন্তু সেটাও তারা সঠিকভাবে সেলাই দিতে পারেননি। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তারা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে আমি আইনের আশ্রয় নেব।’
নগর মাতৃসদন হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের টেকনোলজিস্ট রহিমা বেগম বলেন, ‘সেই সময় কোনো ডাক্তার ছিলেন না। নার্স প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মৃত নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ আসে। এ সময় রোগীর ৫০-৬০ জন স্বজন হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। আর পুলিশ নার্স শিরিন ও আয়া বন্যাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতালের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মফিজ উদ্দিন শেখের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, ‘নগর মাতৃসদন হাসপাতালটি পৌরসভার আওতাধীন। এটা পৌরসভার প্রকল্পেই পরিচালিত হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পৌরসভার দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি।’