মতিঝিল থানার সাবেক ওসি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল হোসেন ও সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) গৌতম কুমার সরকার সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষ ও মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে আজাদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ দুদকের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
দুদকের তথ্যমতে, সাবেক ওসি আজাদ, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল ও সাবেক এসআই গৌতম কুমার সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। অভিযোগ আমলে নিয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অনুসন্ধানে নামে দুদক। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান অভিযোগসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চেয়ে ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিসসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেন। চিঠিতে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য ১২ মার্চের মধ্যে দুদকে পাঠাতে বলা হয়।
দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মতিঝিল থানার সাবেক ওসি আবুল কালাম আজাদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র দুদকে জমা হয়েছে। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে অস্বাভাবিক সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। তবে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের অস্বাভাবিক সম্পদ পাওয়া গেছে। এখন অভিযুক্তদের সম্পদ বিবরণী পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান কর্মকর্তা কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবেন। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঠেকাতে শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ বাহিনী ছিল বেপরোয়া। ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। শত শত মায়ের বুক খালি করে। বিশেষ করে ঢাকার প্রায় সব থানার ওসি অবতীর্ণ হয়েছিল খুনির চরিত্রে। গত ৫ আগস্ট হাসিনার পলায়নের পরপরই তারা জনরোষে পড়েন। তাদের মধ্যে মতিঝিল থানার সাবেক ওসি আবুল কালাম আজাদ রয়েছেন।