এজবাস্টনে ইতিহাস গড়লেন শুবমান গিল। দুই ইনিংসে ৪৩০ রানের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভারতকে এনে দিলেন জয়পথে এগিয়ে যাওয়ার দিশা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু ব্যাটিং নয়—চলেছে বিতর্কও, আর সেটার কেন্দ্রবিন্দুতে গিলের পরা ‘নাইকি’ ব্র্যান্ডের টাইটস।
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) বর্তমানে জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত ২৫০ কোটির এই চুক্তি বলবৎ থাকবে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। স্পনসরশিপের শর্ত অনুযায়ী, ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের শুধু অ্যাডিডাসের পোশাক পরারই অনুমতি রয়েছে।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ইনিংস ডিক্লেয়ার করতে ডাগআউট থেকে মাঠে নামার সময় গিলকে দেখা যায় ‘নাইকি’ ব্র্যান্ডের টাইটস পরে। বিষয়টি তখন হয়তো চোখ এড়ালেও এখন তা বড় বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
স্পনসর চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের জন্য অ্যাডিডাস চাইলে চুক্তি বাতিল করতে পারে, এমনকি দাবি করতে পারে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণও। যদিও বাস্তবতা বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা অ্যাডিডাসের পক্ষেও সহজ নয়। ফলে আপাতত সাবধানবাণী বা মৌখিক সতর্কবার্তাতেই হয়তো সীমাবদ্ধ থাকবে বিষয়টি।
বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। তবে বিসিসিআই গিলের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কেননা, এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের খেসারত হিসেবে স্পনসরশিপে ফাটল ধরলে তা হতে পারে বড় ধাক্কা।
অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ম্যাচে ব্যস্ততার মাঝে হয়তো গিল তাড়াহুড়োয় পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় আনেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে যখন বিষয় জড়িত কোটি টাকার চুক্তির, তখন এমন ছোট ভুলও হতে পারে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ।
শুভমন গিলের দুর্দান্ত ইনিংস আপাতত আলোচনার পর্দা টেনে রাখলেও, তার ‘নাইকি পর্ব’ বিসিসিআইয়ের কপালে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, অ্যাডিডাস কী পদক্ষেপ নেয়, আর বিসিসিআই কীভাবে সামলায় এই অপ্রত্যাশিত বিতর্ক।