বগুড়ায় পৃথক অভিযানে ভুয়া ২ ডিবি পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

বগুড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকি সাদৃশ্য মোবাইল ফোন, শক মেশিনসহ ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। 

শনিবার সকালে সদরের গোদারপাড়া ও রবিবার ভোররাতে শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 রবিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

গ্রেপ্তারকৃত দুই প্রতারক হলেন, জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌধুরিপাড়া এলাকার মো. শামীম আহম্মেদ (৪৬) ও বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা মো. তাফসির (২৮)। 

গ্রেপ্তারের সময় প্রতারক শামীম আহমেদের কাছ থেকে ১টি ওয়াকিটকি সাদৃশ্য মোবাইল ফোন, ১টি বক্সিং রিং, ১টি বৈদ্যুতিক হ্যান্ড শক মেশিন, ১টি ড্রাইভিং লাইসেন্স, ১টি অস্থায়ী সোর্স নিয়োগের আবেদনপত্র ও ১টি ডা. মো. শামীম আহম্মেদ লেখা ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

জেলা ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জনৈক মারুফ ইসলাম বগুড়া ডিবি অফিসে শনিবার লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, মারুফ ইসলাম গোদারপাড়া বাজারে শেরপুর চাউল ঘরের বিকাশের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে আসছিলেন। সেখানে তার কাছ থেকে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। গত ২১ জুন সকালে অজ্ঞাত মোবাইল থেকে বগুড়া ডিবি পুলিশের প্রধান শামীম পরিচয়ে ফোন করে চারমাথা ফিলিং স্টেশনের সামনে ডেকে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য মারুফ ইসলামকে বলে। এ সময় মারুফ দুদিনের মধ্যে কিছু টাকা পরিশোধ করতে চাইলে শামীম তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকার মোটর সাইকেলে তেল উঠিয়ে নিয়ে যায়।  

পরে ২৩ জুন  বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মারুফের কাছ থেকে বিকাশের দোকানের পাওনা ৭৭ হাজার টাকা দাবি করে প্রতারক শামীম। এ সময় মারুফকে প্রতারক শামীম মোবাইল ওয়াকিটকি দেখিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং প্রাণ নাশের হুমকিসহ মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় শনিবার (৫ জুলাই) সকালে গোদারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক শামীম আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার বগুড়া সদর থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপর এক অভিযোগে মেহেদী হাসান সাওন নামে একজন জানান, শনিবার দুপুরে ডিবি পুলিশের অফিসার রেজা পরিচয় দিয়ে তাকে জানায়, তার নামে ৭/৮ মামলা করা হয়েছে থানায়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজতেছে। পরে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং ফোন করে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। বিকাশে টাকা দিতে বললে, মেহেদি নগদ টাকা দিতে চাইলো এবং তাকে সুলতানগঞ্জপাড়া উটের মোড় ঈদগাহ্ মাঠের সামনে পাকা রাস্তায় দেখা করতে বলে।  

পরে ঘটনাটি ডিবি পুলিশকে জানালে, তারা রবিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে সুলতানগঞ্জ পাড়া এলাকা থেকে ভুয়া ডিবি অফিসার পরিচয় দেয়া মো. তাফসিরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সেখান থেকে কৌশলে ৪/৫ জন পালিয়ে যায়।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রতারক শামীম আহমেদ সে দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেকে ভূয়া ডিবি অফিসার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট হতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছিল ও প্রতারক তাফসির এবং পলাতক আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবত নিজেদের পরিচয় গোপন করে বগুড়া ডিবির অফিসার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনকে মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন অংকের টাকা নেয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রবিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।