কনকাকাফ গোল্ড কাপের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াইয়ে আবারও চূড়ায় মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ১০ম বারের মতো শিরোপা ছিনিয়ে নিল তারা।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে প্রায় ৭১ হাজার দর্শকের সামনে রোমাঞ্চকর ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ফিরেছে মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক এডসন আলভারেজের ৭৭তম মিনিটের হেডেই জয় নিশ্চিত হয় ট্রি-কালারদের।
বিশ্বকাপ সহ-আয়োজক দুই দেশের লড়াই ছিল যথারীতি হাড্ডাহাড্ডি। তবে ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আধিপত্য ছিল মেক্সিকোর।
প্রথমার্ধের ৪ মিনিটেই যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যায় ক্রিস রিচার্ডসের হেডে, সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের নিখুঁত ফ্রি কিক থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগান তিনি। তবে সেই গোলেই শেষ তাদের মূল সময়ের উল্লাস।
২৭ মিনিটে রাউল জিমেনেজের দারুণ এক শটে সমতায় ফেরে মেক্সিকো। মার্সেল রুইজের থ্রু পাস থেকে গোল করে নিজের প্রাক্তন ওলভারহ্যাম্পটন সতীর্থ দিয়েগো জোটাকে স্মরণ করেন জিমেনেজ— গায়ে তুলে নেন ‘২০ নম্বর জোটা’ লেখা একটি জার্সি। স্পেনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের স্মৃতিতেই নিবেদিত ছিল তার উদযাপন।
মেক্সিকোর হয়ে দারুণ খেলেন ১৬ বছর বয়সী প্রতিভা গিলবার্তো মোরাও। তার দুটি শট গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের দক্ষতায় গোল বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণ করলেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগে গিয়ে আটকে যায় বারবার।
শেষ পর্যন্ত ৭৭ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন আলভারেজ। শুরুতে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিলেও ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এই জয়ে তিন বারের বেশি গোল্ড কাপজয়ী একমাত্র দল হিসেবে নিজেকে আলাদা করল মেক্সিকো।
ম্যাচ শেষে মেক্সিকো অধিনায়ক আলভারেজ বলেন, 'গতবার এই মাঠেই কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলাম। আজ যেন জীবনে এক অন্যরকম আনন্দ ফিরে পেলাম। এটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের মুহূর্ত।'
যুক্তরাষ্ট্র অধিনায়ক টিম রিম হতাশ গলায় বলেন, 'শুরুটা আমরা দারুণ করেছিলাম। কিন্তু এরপর ধৈর্যের অভাব আর বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোই আমাদের ভুগিয়েছে।'
গোল্ড কাপ ইতিহাসে এটি ছিল মেক্সিকোর ১০ম শিরোপা, যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে তিন শিরোপা পিছিয়ে।