দেশের ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সময় লাগলেও আমানতকারীদের সব অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তবে একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলোর আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্টদের কেন একীভূত হবে না, তা ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলো ইসলামী ধারার হলেও নাম সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
ইসলামী ধারার দুর্বল কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমরা ছয়টি ব্যাংকের সাথেই আলাদা আলাদা আবারও বৈঠক করব। যদি তারা সঙ্গত কারণ দেখাতে পারে, তাহলে মার্জ হবে না। আমাদের জানামতে, ছয়টি ব্যাংকই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সেজন্য তাদের মার্জের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বোর্ড পুনর্গঠনের পর কিছু ব্যাংক খুবই ভালো করছে। তবে যারা পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না, প্রয়োজনে এসব ব্যাংকের বোর্ড আবার পুনর্গঠন করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছি, কেন তাদের ব্যাংক বন্ধ করা হবে না তার উত্তর দেওয়ার জন্য। তারা যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে এবং সরকার সম্মত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আমার ধারণা, কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর জানান, শুধু ডলার ভিত্তিক রিজার্ভ ব্যবস্থা থেকে পরিবর্তন এনে পণ্য মুদ্রা বা অন্য সম্পদ সঞ্চয় করা যায় কি না সে বিষয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব আমানতকারী তাদের টাকা ফেরত পাবেন এ কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, এক মাস হোক, বা ছয় মাস, বা এক বছর সময় যতই লাগুক না কেন, সবাই তাদের জমার টাকা ফিরে পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনেক গ্রাহক এরই মধ্যে টাকা পেয়েছেন, বাকিরাও পাবেন, তবে একটু সময় লাগতে পারে।