৬৩ ম্যাচ খেলা চেলসি ভাল দল না ৭১ ম্যাচ খেলা ফ্লুমিনেন্সে 

ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ রাতে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের মুখোমুখি হচ্ছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি । তার আগেই চেলসির কোচ এনজো মারোস্কার এক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

ম্যাচপূর্ব সাংবাদিক সম্মেলনে মারোস্কা দাবি করেন, ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে চেলসি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে অনেক বেশি ম্যাচ খেলে আসার ধকল নিয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ৬৩টি ম্যাচ খেলেছি। তাই ইউরোপীয় দলগুলো এই টুর্নামেন্টে আসে ভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে, কারণ আমাদের ম্যাচসংখ্যা অনেক বেশি।”

মারোস্কা যোগ করেন, “জিততে আমাদের ইচ্ছা সমান, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা এখানে এসেছি ৬০টা ম্যাচ খেলে।” এরপর তিনি ফ্লুমিনেন্সের ম্যাচসংখ্যা জানার ভার সাংবাদিকদের ওপর ছেড়ে দেন: “তোমরা এসেছো...?”

সাথে সাথেই এক ব্রাজিলীয় সাংবাদিক মারোস্কাকে সংশোধন করে বলেন, “৭০টি ম্যাচ। একই সময়ের মধ্যে আরও বেশি।” মারোস্কা তখন অবাক হয়ে কিছু না বলেই প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে অন্য প্রশ্নে চলে যান।

 ২০২৪/২৫ মৌসুমে চেলসি প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ স্থানে থেকে শেষ করেছে এবং কনফারেন্স লিগ জিতেছে। ইংলিশ ক্লাবটির এই মৌসুম শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টে এবং শেষ হবে এই ফিফা আয়োজিত নতুন ক্লাব বিশ্বকাপের পর।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকায় ফুটবল মৌসুম চলে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। সে অনুযায়ী ফ্লুমিনেন্স এখন পর্যন্ত খেলেছে ৪১টি অফিসিয়াল ম্যাচ—ব্রাজিলিয়েরাও, কোপা সুদামেরিকানা, কোপা দো ব্রাসিল ও ক্যাম্পিওনাটো কারিওকা মিলিয়ে। তবে ইউরোপের মতো সময় বিবেচনায় নিলে দলটি খেলেছে ৭১টি ম্যাচ।

এমন তথ্য জানার পর সুর নরম করে মারোস্কা বলেন, “আমি মনে করি না চেলসি ফেবারিট। এই পর্যায়ে এসে ফেবারিট বলে কিছু থাকে না। এখানে যেসব দল এসেছে, তাদের বিশেষ কিছু আছে বলেই এসেছে।’”

তাঁর মতে, কেবল বাজেট নয়, সাফল্যের জন্য দরকার সঠিক পথে কাজ করা। “বাজেট দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। তার চেয়ে বেশি কিছু দরকার। ফুটবলের ইতিহাস বাজেট-ভিত্তিক বড় দলের পরাজয়ের গল্পে ভরা। এটা বাজেটের নয়, সঠিকভাবে কাজ করার ব্যাপার।”

 এই টুর্নামেন্টে ফ্লুমিনেন্স এরই মধ্যে হারিয়েছে সৌদি ক্লাব আল হিলালকে এবং চমক দেখিয়ে শেষ ষোলোতে হারিয়েছে লাওতারো মার্তিনেজের ইন্টারকে। এখনো পর্যন্ত দলটি অপরাজিত।

অন্যদিকে, চেলসি কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছে পালমেইরাসকে এবং তার আগের রাউন্ডে হারিয়েছে বেনফিকাকে। তবে একটি ম্যাচে তারা হেরেছে—ফ্লুমিনেন্সের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লামেঙ্গোর কাছে!

এখন দেখার অপেক্ষা, মাঠের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকে—ইংলিশ শক্তি, নাকি ব্রাজিলীয় ধার?