‘রাতের আঁধারে এরশাদের স্বাক্ষর নিয়ে জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান হয়েছেন’

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সিদ্ধান্ত মানেন না অব্যাহতি পাওয়া আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মো. মুজিবুল হক (চুন্নু)। তাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে জোর করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বাক্ষর নিয়ে জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দলের নেতাদের সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, একটা গণতান্ত্রিক পার্টির দায়িত্ব হস্তান্তর কখনো রাতের আঁধারে হয় না। আর সেটাই করেছেন জিএম কাদের। অথচ জীবিত থাকাকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রুহুল আমিনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিতে চাইলেও তিনি (রুহুল আমিন) নিতে চাননি।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যে প্রেসিডিয়াম সভার কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। তাই, আমরা এখনো স্বপদে আছি।

জাতীয় পার্টি না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে চুন্নু বলেন, আমরা জাতীয় পার্টি ভাঙতে দেব না। আমাদের অবদান দলের জন্য সবচেয়ে বেশি। আমরা কাউন্সিলে যাব, সেখানে আমাদের কথা গ্রহণ না করলে এরপর আর কথা থাকবে না।

জিএম কাদের দলের যে ক্ষতি করছেন, তা কোনো সুস্থ রাজনীতিবিদ করতে পারেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, ১৭ বছর জাপার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জাতীয় পার্টি ছোট হতে হতে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। একদম ধ্বংসের কিনারায়। সেখান থেকে জাতীয় পার্টিকে কীভাবে উদ্ধার করা যায়, কী ভাবে জাতীয় পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, রাজনীতিতে আবার আমাদের অবস্থান ফিরে পেতে পারি, সেই জন্য আজ এই সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার দলীয় সব পদ-পদবি থেকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মুজিবুল হককে অব্যাহতি দেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। অন্যদিকে শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে দলের মহাসচিব করার ঘোষণা দেওয়া হয়।