পাবনায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

পাবনার সুজানগরের মোবাইল ফোনে এক নারীর সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সুজানগর পৌরবাজারের নন্দিতা সিনেমা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত অন্যরা হলেন সুজন আলী, শেখ মনজেদ আলী, ইয়াকুব আলী, আলহাজ হোসেন, যুবদল কর্মী মানিক খাঁ, সবুজ খাঁ, আব্দুর রহমান, শাকিল খাঁ, রিয়াজ খান, টিক্কা খান, তুষার, আসলাম ও মনজিল। বাকিদের নাম জানা যায়নি। আহতদের সাতজন পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও সাতজন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনে এক নারীর সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খাঁর অনুসারী আশিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখের ভাতিজা ছাত্রদল নেতা কাউছার ও তার অনুসারীরা। এরপর এ ঘটনার মীমাংসা হলেও গতকাল দুপুরে আশিককে নন্দিতা সিনেমা হলের সামনে ডেকে নেন কাউছাররা। কাউছারদের সঙ্গে দেখা করতে আশিক তার চাচাতো ভাই ছাত্রদল নেতা সবুজকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখানে কাউছার ও আশিকের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় সবুজ বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। আশিক ও সবুজ বিষয়টি তাদের অভিভাবক এবং বিএনপি নেতাদের জানান। পরে তারা দলবদ্ধভাবে এসে কাউছারদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আব্দুর রউফ উভয়পক্ষকে থামাতে গেলে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ শেখ ও মজিবর খাঁর সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান আলহাজ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি দলীয় কোনো বিষয় নয়। আঞ্চলিক বা ব্যক্তিগত বিষয়। তবুও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আসলেই নিন্দনীয়। ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।

সুজানগর থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। আসলে কী নিয়ে বুধবারের এ ঘটনা, এটা এখনো পুলিশ পরিষ্কার নয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। শুনেছি এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।