জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। যতদিন পর্যন্ত না দোষীদের বিচার হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মাগুরায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ বলেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে। এই দাবিতে ৩ আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ফ্যাসিস্টের বিচার, জুলাই সনদ ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এ দেশের জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না।
দুপুর দেড়টায় জুলাই পদযাত্রাটি ঝিনাইদহ থেকে মাগুরা এসে পৌঁছায়। পদযাত্রায় নাহিদ ইসলাম ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, মূখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, সামান্তা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পদযাত্রাটি মিছিলসহকারে মাগুরা শহর প্রদক্ষিণ করে ভায়না মোড়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। সামান্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মনে হয় ভুলে যাচ্ছে তারা একটি গণঅভ্যুত্থানের সরকার। অভ্যুত্থানের সরকার হিসেবে তাদের কিছু মৌলিক দায়িত্ব আছে, কিন্তু তারা সেটা পালন না করে বরং নির্বাচন নিয়ে বেশি কথা বলছে। পরে পদযাত্রাটি নড়াইল জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বিকেলে নড়াইল পুরাতন বাস টার্মিনাল মুক্তমঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের থেকে নির্বাচন নিয়েই বেশি তড়িঘড়ি করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবেই বলেছি, বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের মাধ্যমেই নির্বাচনে যেতে হবে। ফলে আমরা বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে বাংলাদেশে পদযাত্রায় যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল নতুন দেশ গড়ার জন্য, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তরুণরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশ গড়ার আহ্বান নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আমাদের স্বপ্ন ছিল দলমত নির্বিশেষে নতুন করে দেশ গড়ব। কিন্তু আমরা আস্থা রাখতে পারিনি। অনেকেই এখন গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে চায় না। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, দেশে নতুন করে আর যেন কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হয়। আমরা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্তি দিতে চাই।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা শুনছি শাপলা প্রতীক আমাদের দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন মিটিং করার আগেই কীভাবে এ খবর প্রচার হলো? নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার জানিয়ে হাসনাত বলেন, আপনাদের রিমোট কন্ট্রোল কাদের হাতে তা আমরা জানি। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, খুলনাঞ্চলের অঞ্চল পরিচালক মোল্যা রহমতউল্লাহ, অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী, যুব শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা সুলতানা রিমি। নড়াইলের পদযাত্রা শেষে নেতারা যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।