যে ক্লাবটি এক সময় পেলে, বেকেনবাওয়ার ও ক্রুইফের মতো ফুটবল কিংবদন্তিদের নিয়ে এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রে, সেই কসমস ফিরছে আবার। তবে এবার আর নেই নামের সঙ্গে 'নিউইয়র্ক'—দলটির নতুন ঘর এখন প্যাটারসন, নিউ জার্সি।
২০২৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা ইউএসএল লিগ ওয়ানে খেলবে কসমস পুরুষ দল। ২০২৭ সালে নারী দলের অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে ইউএসএল সুপার লিগে।
ঘরের মাঠ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ৭,৮০০ আসনের হিনচলিফ স্টেডিয়াম, যেটি অতীতে মূলত বেসবল খেলার জন্য ব্যবহৃত হতো। এটা ৭০ ও ৮০-এর দশকের সেই কসমসের তুলনায় অনেক ছোট ভেন্যু, যারা একসময় জায়ান্টস স্টেডিয়ামে বিশাল দর্শক টেনেছিল।
এই নতুন যাত্রার পেছনে আছে নর্থ জার্সি প্রো সকার, যার নেতৃত্বে আছেন রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা বায়ে আদোফো-উইলসন। তারা ফিওরেন্তিনার মালিক রোকো কোমিসো থেকে কসমসের মালিকানা ও স্বত্ব কিনে নিয়েছে। কোমিসো এখন কসমসে ক্ষুদ্র অংশীদার, ২০২১ সালে সিরি আ ক্লাব কেনার পর কার্যত ক্লাবটিকে গুটিয়ে রেখেছিলেন।
দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ফুটবল অপারেশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইতালি ফরোয়ার্ড জিউসেপে রসি। বিশ্ব তারকাদের আমদানি না করে, এবার লক্ষ্য ঘরোয়া প্রতিভা গড়া।
প্যাটারসন সিটি হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রসি বলেন, ‘আমরা দেখাতে চাই, একজন 'কসমো' মানে কী। আমাদের মূল্যবোধ, খেলার ধরন আর কমিউনিটিই হবে আমাদের পরিচয়। জাদুটা হবে এখানকার—নর্থ জার্সির প্রতিভার মধ্যেই।’
প্রথম যুগের কসমস ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত পাঁচবার জিতেছিল নর্থ আমেরিকান সকার লিগ। কিন্তু আর্থিক সংকটে লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৯৮৫ সালে কসমসও কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ২০১০ সালে ক্লাবটি আবার গঠিত হয়, পরে ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নতুন এনএএসএল-এ খেলে তিনবার শিরোপা জেতে।