মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী হত্যার প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং সারাদেশে চলমান খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলের নিচ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্রোহী হলের সামনেই এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ।

মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো ক্যাম্পাস। তাঁরা শ্লোগানে বলেন—“সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও”, “সন্ত্রাসীরা উল্লাস করে, ইন্টারিম কী করে?”, “আমার ভাই মরল কেন? ইন্টারিম জবাব দে”, “খুন ধর্ষণ নিপীড়ন, রুখে ফেলো জনগণ”, “জবাব জবাব জবাব দে, নইলে গদি ছেড়ে দে”, “দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিব রক্ত”, “রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়”।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে যেভাবে একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে, তা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং বিচারহীনতার ফল। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।

সমাবেশে আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রাজু শেখ বলেন, “সংগ্রামী ছাত্র-জনতা, আমি আপনাদের স্বাগত জানাই প্রস্তর যুগে। বিএনপির হাত ধরে বাংলাদেশ আবার প্রস্তর যুগে ফিরেছে, যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা দেখছি, বিএনপির সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে নাটকীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই নাটক আর চলতে পারে না। ইন্টারিম সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনারা গাছ লাগানোর জন্য নয়, সন্ত্রাস নির্মূল করতে ক্ষমতায় এসেছেন। যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়, তাহলে আপনারা সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিন। আমরা এক ফ্যাসিস্টকে বিদায় দিয়েছি, আরেকজনকে বিদায় জানাতে দ্বিধা করব না। বিচার না হলে আমরা লংমার্চের মতো বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার বলেন, “এই মর্মান্তিক খুনের প্রতিবাদে আমাদের রাস্তায় নামতে হতো না যদি আগের ঘটনার সঠিক তদন্ত হতো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করত। এটি নিছক একটি খুন নয়, এটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। এর দায় ইন্টারিম সরকারকে নিতেই হবে। তদন্তে যেন কোনো দলীয় রং না থাকে। এই ধরণের বর্বরতা ও ট্রমা আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক বিচার, যাতে সমাজে কেউ আর এমন কাজ করার সাহস না পায়।”

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩ নম্বর গেটের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে মাথায় পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়। ১১ জুলাই সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন।