গ্রাফিতি থেকে ‘সরকারের ব্যর্থতা’ মুছতে চায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২২ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতির কিছু অংশ মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আঁকা এ গ্রাফিতিতে মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনা এবং মিটফোর্ডে একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে, এই যুক্তিতে তারা গ্রাফিতির ওই অংশ বাদ দিতে চেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

এ প্রসঙ্গে ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার বলেন, “প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে গ্রাফিতি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আমাদের আঁকায় বাধা দেওয়া হয়েছিল, এবারও একই ঘটনা ঘটছে। সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ পাচ্ছে বলেই মুছে ফেলতে বলা হয়েছে, এটা শিক্ষার্থীদের দমন করার চেষ্টা। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।”

গ্রাফিতি অংকনের দায়িত্বে থাকা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়বস্তুর সীমা নির্ধারণ করে কোনো দিকনির্দেশনা আসেনি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে দেশের চলমান বিষয়গুলোকে তুলে ধরেছি। কিন্তু ৫ আগস্ট মৌখিকভাবে আমাদের জানানো হয় যে মিটফোর্ড হত্যা ও মাইলস্টোন দুর্ঘটনার চিত্র মুছে ফেলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আগেই জানানো হতো যে প্রতিটি বিষয় অনুমতি সাপেক্ষে হবে, তাহলে হয়তো আমরা দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হতাম না। তাহলে তো ধর্ষণের ঘটনা, আত্মহত্যা, বা আছিয়ার ছবিও বাদ দিতে হতো। সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা কি তবে এখন অপরাধ?”

অন্যদিকে, জুলাই অভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মো. অলি উল্লাহ বলেন, “যেহেতু গ্রাফিতির মূল বিষয় জুলাই অভ্যুত্থান, তাই সংশ্লিষ্ট চিত্রই রাখা হবে, এই কারণেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.  ইমদাদুল হুদা বলেন, “উদ্বোধনের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না, তাই গ্রাফিতির বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে দেখিনি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে শিল্প উপস্থাপন। বাইরের বিষয় যদি যুক্ত হয়, সেটি হয়তো অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। তাই সংশোধনের সিদ্ধান্ত এসেছে।”

এদিকে গ্রাফিতির বিতর্কিত অংশ মুছে ফেলার চেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রবিবার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে তারা দাবি জানিয়েছে, এই অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে, যারা এতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত