এনসিপির সঙ্গে জোট হলেও জামায়াতের সঙ্গে নয়

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার কথা বলেছেন। এতে নির্বাচনের অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে। রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। নতুন মেরূকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী জোট হলেও জামায়াতের সঙ্গে সেই সম্ভাবনা বলতে গেলে নেই। দেশ রূপান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শফিক শাফিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেছেন। আনুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাস্তবতা, সম্ভাব্য নির্বাচন, জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ, আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।

দেশ রূপান্তর : কেয়ারটেকার সরকারের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও এর কাঠামো নিয়ে কি মতানৈক্য আছে?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : কেয়ারটেকার গভর্মেন্টের বিধান বহাল হয়ে গেছে। বাকি আছে অ্যাপিলেট ডিভিশনে এ-বিষয়ক রিভিউ শুনানি। আশা করছি, রায় জনগণের পক্ষেই যাবে।  কেয়ারটেকার গভর্মেন্টের বিষয়ে বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ে বলা হয়েছিল, বিচার বিভাগকে বাদ রাখা যেতে পারে। তার রায়ের কথা আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি না। কিন্তু তার পর্যবেক্ষণটা ভালো। আমি বলেছি, বর্তমান বিধানটা তিন নম্বর থেকে শুরু হোক। তার আগে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে যদি একটা, দুইটা বা তিনটা বিকল্প দিতে পারি তাহলে ভালো। সব দলেরই বিকল্প প্রস্তাব করার কথা। আমাদের দলও বিকল্প প্রস্তাব দেবে। অন্যরাও দেবে। সংস্কার কমিশন থেকেও দেওয়া হবে। আলোচনাটা এখানেই স্থগিত হয়ে আছে। তবে কেয়ারটেকার সরকারের বিধানের পুনর্বহাল হওয়া, এর অধীনে সংসদ নির্বাচন করার বিষয়ে সবাই একমত। এজন্যই তো আমরা সংগ্রাম করেছি।

নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে সারা জাতি একমত। এখন ভাবনা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রণালি নিয়ে। কাদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে সে বিতর্ক আছে। আলোচনা চলছে। এখানে অনেকে অনেক বিকল্প প্রস্তাব আসতে পারে। আশা করা যায়, একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে। না হলে যে বিধানটা এখন আছে, সেটাই থাকবে।

দেশ রূপান্তর : আপনারা পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন কেন?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : প্রথম যুক্তি, বাংলাদেশের পলিটিক্যাল কালচারে এটা কোনো এক্সপেরিমেন্ট হয়নি। এটার এক্সারসাইজ হয়নি, অভিজ্ঞতা নেই, হিস্টোরি নেই। দ্বিতীয় হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক কালচারে মানুষ তার নির্বাচনী এলাকায় একজন ব্যক্তিকে চায় তিনি মহিলা হোন বা পুরুষ হোন; ওই ব্যক্তি তাকে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাকে দেখেই ভোট দেয় মানুষ। আমাদের দেশের শতভাগ মানুষ রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট নয়। আমাদের শিক্ষার হারও যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়। পিআর পদ্ধতিতে কোনো এলাকায় কোনো দলের পক্ষে বেশি ভোট পড়লেও, সেখানে ওই দলেরই প্রার্থী যে সংসদে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

মূল যুক্তি হচ্ছে, এ পদ্ধতি চালু হলে মানুষের মধ্যে ভোটের আগ্রহ কমে যাবে; কার্যকরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে না। যেসব দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সবচেয়ে শক্তিশালী, যেখানে এমপিদের কাজ শুধু আইন প্রণয়ন করা ছাড়া অন্য কিছু নয়। সেসব দেশে পিআর পদ্ধতি বেশ কার্যকর। পিআর পদ্ধতিতে ওয়ান পার্সেন্ট, টু পার্সেন্টের ভিত্তিতে যারা সিট পাবে, তাদের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো বিধান এ পদ্ধতিতে নেই। কোনো দল নেই বলে কোনো এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিটি মনোনীত হতে পারবেন না। আমরা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট কীভাবে দেব, সে চেষ্টা করতে পারিনি। আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলগুলোর মার্কার ওপরে ভোট দেওয়া কতটুকু বিবেচনার দাবি রাখে?

দেশ রূপান্তর : অন্যান্য দল কেন পিআর পদ্ধতি চাইছে?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : তারা মনে করছে, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে আসন সুবিধা মিলবে। সমস্যা হচ্ছে, এ পদ্ধতিতে সবসময় কোয়ালিশন সরকার থাকবে বা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে। যেমন কোনো দল ৩০ পার্সেন্ট ভোট পেল। সবচেয়ে বড় দল ৩৩ পার্সেন্ট ভোট পেল। ৩০ পার্সেন্ট-ওয়ালারা জোটসহ হয়তো ৪০-৪২ পার্সেন্ট পেল। সে ক্ষেত্রে যদি ৩০০ আসনের মধ্যে আমরা হিসাব করি, তাহলে তারা ১২০টা পাবে, ম্যাক্সিমাম ১৫০টা আসন পাবে; তারা সরকার গঠন করতে পারবে না। কিন্তু যারা কম জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের সুবিধা হবে। তারা ১০ পার্সেন্ট ভোট পেলে ৩০টা আসন পাবে। ৫ পার্সেন্ট ভোট পেলে তারা হয়তো পাবে ১৫টা আসন। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সবসময় আইন প্রণয়নে, সরকার পরিচালনায় অসুবিধায় পড়তে হবে, তাতে কি আমরা রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে পারব?

দেশ রূপান্তর : যারা এ পদ্ধতির বিরোধিতা করছে তাদের কমন ডায়ালগ হচ্ছে ‘আমরা এক ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে আরেক ফ্যাসিবাদকে আনতে যাচ্ছি?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : চলমান পদ্ধতিতে নির্বাচন যদি হয়, তাহলে দেখা যাবে বিএনপি ২৭০ আসন পেয়ে গেল। তখন ছোট দলগুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। অন্যান্য পলিটিক্যাল পার্টি তাদের শেয়ারিংটা ইনস্টল করতেই পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে। এটা পলিটিক্যাল একটা স্ট্র্যাটেজি হতে পারে। জনগণ এখনো ভোট দেয়নি। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। জুডিশিয়ারি এখন প্রায় স্বাধীন এবং দুদকের কার্যক্রম এখন অনেকটা দৃশ্যমান। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিলে কোন দল মেজরিটি পাবে, কত আসন পাবে সেটা তখন দেখা যাবে।

আমরা মনে করি, এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচন হলে মানুষ ট্রুুলি কোন দলকে ওভারঅল মেজরিটি দেয়, সেটা মানুষেরই ইচ্ছা। এখানে আমাদের হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। ক্ষুদ্র দলগুলোরও একটা মত থাকতে পারে। তারা রিপ্রেজেন্টেশন কম পাবে। এটাও তো জনগণের ইচ্ছা। আমরা ঢাকায় বসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম, তাতে জনমত কতটা প্রতিফলিত হলো, তার সঙ্গে জনগণ আছে কি না, তাও তো দেখার বিষয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিছু কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তাদের সামাজিক কালচারের সঙ্গে আমাদের সামাজিক কালচার এক নয়। পৃথিবীর উন্নত দেশে সরাসরি পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে, পিআর পদ্ধতিতে নয়।

দেশ রূপান্তর : আপার হাউজ, লোয়ার হাউজ নিয়েও তো কথা হচ্ছে...

সালাহউদ্দিন আহমেদ : আমরা আপার হাউজের বিষয়ে আমাদের অভিমত দলের পক্ষ থেকে দিয়েছি। সেটা হচ্ছে, লোয়ার হাউজে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে আপার হাউজে অনুপাত হবে। সংবিধান সংশোধন মেজরিটির ভিত্তিতে হতে হয়। সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়। সমাজের চাহিদার ভিত্তিতে, মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে এর পরিবর্তন হতেই পারে এবং পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। একজন ব্যক্তি স্বৈরাচারী হয়েছিল, সেটা মাথায় রেখে সবকিছু যদি আমরা সাজাতে থাকি, তাহলে তো পার্লামেন্টারি ব্যবস্থাই থাকে না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে গেলে, ফ্রিডম অব প্রেস হয়ে গেলে কারোই কোনো সুযোগ থাকবে না স্বৈরাচারী হওয়ার।

আমাদের চিন্তা-চেতনায় ছিল, আপার হাউজে তারাই আসবে যারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রেখেছে। সমাজ, রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য, বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে যারা অবদান রাখতে সক্ষম, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যেমন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ক্রীড়াবিদ, মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, মানবাধিকারকর্মী থাকবে এবং বঞ্চিত বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আপার হাউজটা যেভাবে লোয়ার হাউজের আসনের অনুপাতে আমরা নির্ধারণ করেছিলাম সেভাবেই থাকা উচিত।

দেশ রূপান্তর : কেউ বলছে আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া তারা নির্বাচন হতে দেবে না। কেউ বলছে তারা সংস্কার চায়, কেউ বলছে বিচার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হবে না। এ পরিস্থিতি নির্বাচন ফেব্রয়ারিতে হবে কি?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : পলিটিক্যাল রেটোরিক বা পলিটিক্যাল মেটাফর নামে কিছু কথা আছে। যেমন কেউ বলল, লোকটা দৈত্যের মতো। এটা হচ্ছে মেটাফর বা রূপক। আসলে মানুষ দৈত্যের মতো হয় না? এটাকে রেটোরিকও বলা হয়। কারও কারও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ভিন্ন থাকতে পারে। কারও কারও রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন থাকতে পারে। তাদের নির্বাচনী কৌশলও ভিন্ন হতে পারে, সেটা তাদের স্বাধীনতা। যদি কোনো দল সুবিধা করতে পারবে না মনে করে, তারা বিভিন্ন ইস্যু তুলে হয়তো বলবে নির্বাচনে যাব না। এটাও তাদের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার জন্যই আমরা সংগ্রাম করেছি। সংস্কার বলতে কী বোঝায়? অধিকাংশ প্রস্তাবে দেখা যাচ্ছে, তারা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যা আসছে তাতে একমত হচ্ছে, যেমন বিচারের বিষয়ে। আমরা মনে করি, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন, স্বাধীনভাবে ট্রান্সপারেন্টলি ওপেন কোর্ট ট্রায়াল হচ্ছে এবং সেটা অনেক সময় সরাসরি টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য, নিরপেক্ষতার জন্য এবং দেশে এবং বিদেশে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এমন অপরচুনিটি দিতে হবে। যাদের আসামি করা হচ্ছে তারা যাতে সুবিচার পায়, তা নিশ্চিত করতে গেলে কিছু সময় তো লাগবেই। আমরা নির্ধারণ করে দিতে পারি না যে, ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বিচার হয়ে যেতে হবে।

আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছি। বলেছি বিচারের জন্য টাইম নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। কোনো রোডম্যাপ চাইলে তা ইনজাস্টিস হবে। কিন্তু বিচার না হলে নির্বাচনে যাব না এটা খুব অপরিপক্ব কথা। যাদের রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়নি, তাদের মনে হয় অনেক কথা বলার স্বাধীনতা আছে। জনগণ সেটিকে কীভাবে গ্রহণ করে তা দেখার বিষয়। জনগণ শেষ বিচারক।

দেশ রূপান্তর : ফেব্রুয়ারিতে আমরা বা জাতি একটা শক্তিশালী নির্বাচন পাব কি? আমরা কি আবার একটু অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছি না?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : বিভিন্ন দল সমাজে কত লোকের প্রতিনিধিত্ব করে সেটা আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়। কিছু কিছু দল হয়তো নির্বাচন হলে সারা দেশে ওয়ান পার্সেন্ট ভোট পাবে। আল্টিমেটলি পলিটিকস হচ্ছে গেম অব পারসেপশন।

দেশ রূপান্তর : আপনাদের জোটে বা আপনাদের সঙ্গে ছিল তাদের কেউ কেউ কিছু কিছু কথা বলছে, যেটা হয়তো আপনাদের অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না। এটা কি তাদের স্ট্র্যাটেজি?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : যুবকদের সঙ্গে যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে রাজনীতি করছে তাদের নিজস্ব আদর্শ আছে, কৌশল আছে। তার ভিত্তিতে তারা কিছু কথা বলে। আমাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তাদের নিয়েই আমরা নির্বাচন করব বলেছি। তাদের কিছু কিছু বিষয় হয়তো বার্গেনিং পয়েন্ট। এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল।

দেশ রূপান্তর : এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট হবে কি?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : এনসিপি বার্গেনিং করছে। তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত বিভিন্ন রকমের রাজনৈতিক জোট করা, নির্বাচনী জোট করা, আলাপ-আলোচনা থাকা এটা থাকবে। জোট করার একটা সম্ভাবনা আছে। একটা রাজনৈতিক দল বিভিন্ন রকমের কৌশল অবলম্বন করে। শেষ পর্যন্ত তারা কী করে সেটার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

দেশ রূপান্তর : ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে কি?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : এটা রিজনেবল টাইমের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত ছিল।

দেশ রূপান্তর : জামায়াতের সঙ্গে জোট হবে কি? তাদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক ছিল, নির্বাচনের জোট ছিল।

সালাহউদ্দিন আহমেদ : তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোট ছিল। এটা নির্বাচনী কৌশল। আমরা মনে করি, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সঙ্গী ছিল তাদের সঙ্গে একটা কমিটমেন্ট আছে। এর বাইরে কারও সঙ্গে কমিটমেন্ট নেই। তাই জামায়াতের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

দেশ রূপান্তর : ধরুন আওয়ামী লীগ গণফোরামকে সাপোর্ট দিল, তখন ওই গণফোরামের আসনই বেশি হয়ে যাবে। এটা কি বিবেচনায় নিয়েছেন?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : নির্বাচনে কী কৌশল নেওয়া হয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?

সালাহউদ্দিন আহমেদ : আওয়ামী লীগ ইজ নো মোর এ পলিটিক্যাল পার্টি। আওয়ামী লীগ বহু বছর আগেই তার রাজনৈতিক আদর্শ, রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়েছে। তারা নিজেদের রূপান্তর ঘটিয়িছে মাফিয়া সংগঠনে, অগণতান্ত্রিক শক্তিতে, ফ্যাসিস্ট শক্তিতে। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আমি রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে চাই না। তাদের ইতিহাসে কখনো গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না। তাদের ডিএনএতেই ডেমোক্রেসি নেই।