মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে গত বুধবার ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগকে জনতার সামনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ভারী ইটের দলা নিয়ে অর্ধ বিবস্ত্র নিথর দেহের ওপর লাগাতার আঘাত নৃশংসতাকেও হার মানায়। চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি কেউ।
এর এক দিন পর গত শুক্রবার দিনদুপুরে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরে যুবদল নেতা মাহবুব মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এখানেও থেমে থাকেনি খুনি চক্র। গুলিতে দেহ রক্তাক্ত হওয়ার পর তার শরীরের বিভিন্ন অংশের রগ কেটে দেওয়া হয়। একই দিন চাঁদপুর সদরে জুমার নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এক খতিবকে জখম করা হয়েছে।
শুধু ঢাকা, খুলনা বা চাঁদপুর নয়, এমন নৃশংসতা এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবনতির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অবনতি হওয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই তা সাফল্য হতে পারেনি। বরং খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটছে এমন নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা। কোথাও কোথাও শত শত মানুষ মিলে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মায়ের সামনে সন্তানকে মারছে, কোনো কোনো খুনি হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করছে। এমন সব বর্বরতায় ভয় ছড়াচ্ছে সবখানে। তবে থামছে না এ হিংস্রতা। এতে উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠায় পড়েছে দেশের জনগণ। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। জোরেশোরে আরেকটি বড় ধরনের বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীর মধ্যে ভয়হীনতার বোধ সৃষ্টি হলে অপরাধের মাত্রায় নৃশংসতা বাড়ে। নিজেদের অস্তিত্ব আর ক্ষমতার বার্তা দিতেও অপরাধীরা এ ধরনের হিংস্রতা ছড়ায়। ক্ষোভ থেকে সৃষ্ট খুনেও থাকে নৃশংসতা। এসব ভয়াবহতা ঠেকাতে হলে আইনের সঠিক প্রয়োগ, অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সূচকগুলোও চলমান রাখতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি মহল দেশের শান্ত পরিবেশ উত্তপ্ত করার পাঁয়তারা করা করছে বলে আমরা তথ্য পাচ্ছি। এজন্য আমরা সতর্ক আছি। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের কোথাও কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- ঘটলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামলাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
গড়ে প্রতি মাসে ৩১৭টি হত্যা মামলা : পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশে ১ হাজার ১৩৯টি ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে ২২৮টি। গত বছর প্রতি মাসে এই সংখ্যা ছিল গড়ে ১৫৮। এই পাঁচ মাসে হত্যা মামলা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৭টি, যা গড়ে প্রতি মাসে ৩১৭টি। আগের বছর প্রতি মাসে ছিল ২৮৬টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গত ৫ মাসে ৯ হাজার ১০০ মামলা হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে ১ হাজার ৮২০টি। আগের বছর গড়ে প্রতি মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের আইনে মামলা ছিল ১ হাজার ৪৬৪টি। অপহরণের মামলা এই পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৮৭টি; গত বছর প্রতি মাসে ছিল ৫৪টি। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় এই পাঁচ মাসের মধ্যে গড়ে প্রতি মাসে ৯৮৫টি মামলা হয়েছে। গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ৯৪৫টি মামলা হয়েছে।
সন্ধ্যা নামলেই অপরাধীদের অপতৎপরতা : সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীসহ শহর, নগর-বন্দর এমনকি গ্রামের মানুষও ছিনতাই-ডাকাতির আতঙ্কে বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। খোদ রাজধানীতে শত শত মানুষের সামনে রামদা দিয়ে রিকশা আরোহীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি বাসের মধ্যেও কেউ এখন নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। সারা দেশেই ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করা ছাড়াও ধর্ষণের মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই সারা দেশে এ রকম অপরাধ বাড়ছে। তবে এত পুলিশ থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কেন এত অবনতি হচ্ছে সেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর প্রশ্নের শেষ নেই। অপরাধীদের প্রকাশ্যে নৃশংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগরিকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। দেশের কয়েকটি জেলা ও ঢাকার বিভিন্নস্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ ও র্যাবের রাস্তায় টহল নেই বললেই চলে। কোনো ঘটনা ঘটলে কয়েক দিন হইচই হওয়ার পর থমকে যায় তদন্ত। গাছাড়া ভাব আসে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে।
পুলিশের আতঙ্ক এখনো কমছে না : কয়েকজন পুলিশ কর্তা ও বিশ্লেষক দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, মবের কারণে পুলিশের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অন্য সদস্যরা ট্রমা থেকে বের হতে পারছেন না। পুলিশে নেই কোনো কাজের জবাবদিহি। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হলে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। থানায় রাজনৈতিক নেতাদের অবাধ বিচরণ দ্রুত বন্ধ করতেই হবে।
তারা আরও জানায়, পেশাদার পুলিশিং হচ্ছে না বলেই এমনটি হচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা গণঅভ্যুত্থানবিরোধী পুলিশ সদস্যদের গাফিলতির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এ বাহিনীতে নিয়োগের সময় একেবারে বেছে বেছে আওয়ামীপন্থিদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সেসব দলীয় পুলিশ সদস্যের ভয়ংকর রূপ দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। এ কারণে পুলিশ বাহিনীর বর্তমান আইজিসহ পুলিশের একটি অংশ শত চেষ্টা করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। মূলত তৃতীয়পক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণে পুলিশের অনেক সদস্য কৌশলে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
সারা দেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা : সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশ জুড়েই চরম উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে উঠেছে। উদ্বেগ বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সারা দেশেই বেড়েছে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। বেড়েছে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার ঘটনা। মব সৃষ্টি করে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। যৌথ বাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সাঁড়াশি অভিযানেও থামানো যাচ্ছে না এসব অপরাধ কর্মকা-। ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুকন্যা থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত। আবার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে ডাকাতির মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ছাড়াও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়েছে আরও বেশি। গত ১০ মাসে অন্তত দুই হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর প্রতিদিনই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছেই। ফুটপাত থেকে শুরু করে নামি-দামি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
আবারও বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা : পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় জনগণের পাশাপাশি আমরাও উদ্বিগ্ন। ডেভিল হান্টসহ নানাভাবে অভিযান চালিয়েও অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কয়েক দিনের মধ্য আরও একটি বড় অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে গাছাড়া ভাব ও রাস্তায় টহল নেই, তা সত্য। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আজ (গতকাল) কিছু নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে পুলিশের সব কটি ইউনিটপ্রধানদের কাছে।’
পুলিশ অ্যাকশন নিচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে : গতকাল শনিবার ঢাকার গে-ারিয়ায় মিলব্যারাক পুলিশ লাইনসের ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘দেশের কোথাও কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- ঘটলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিচ্ছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী হত্যা, বিমানে বোমা থাকার উড়ো খবরসহ চাঁদপুরে মসজিদের ভেতরে কুপিয়ে জখম ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল। সঙ্গে সঙ্গে আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকার যে হত্যাকা-, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এটির জন্য আমরা অলরেডি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’
কিছু নৃশংসতার ঘটনা : পুরান ঢাকায় ওই নৃশংস হত্যাকা-ের আগে গত ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় ফাতেমা আক্তার নামের এক গৃহবধূ ফ্ল্যাটের ভেতর নৃশংসভাবে হত্যাকা-ের শিকার হন। খুনের পর তার নিথর দেহ ১১ টুকরা করা হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে গত ৩ জুলাই কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটে আরেক নৃশংস হত্যাকা-। মোবাইল চুরির ঘটনার জের ধরে ওইদিন বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে রোকসানা আক্তার রুবি (৫৮), তার ছেলে মো. রাসেল (৩৫) ও মেয়ে জোনাকি আক্তারকে (৩২) হত্যা করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নেতৃত্বে ঘটে এ নৃশংসতা। এই ট্রিপল মার্ডারের পাঁচ দিন আগেই মুরাদনগরে ঘটে আরেক নৃশংসতা। গত ২৮ জুন উপজেলার বাহেরচর গ্রামে খুনের মতো ঘটনা না ঘটলেও তাতেও ছড়ায় ভয়াবহতা। ওইদিন একদল যুবক একটি ঘরে ঢুকে এক নারীকে বিবস্ত্র করে পেটাতে থাকে, পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
গত ৩০ জুন গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কারখানায় চুরির অপবাদ দিয়ে হৃদয় (১৯) নামের এক শ্রমিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২৫ জুন রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে আয়েশা খাতুন (৫০) নামের এক নারীর মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফেরার সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্বজনদের মারধরের পাশাপাশি তাদের স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করা হয়। অলংকারের জন্য মরদেহেও তল্লাশি চালিয়েছে ডাকাত দল। এর আগে ১৮ মে রাতে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে এক যুবককে প্রকাশ্যে কোপানো হয়। এর দুদিন আগে রাজধানীর জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন পাতাম রেস্টুরেন্ট এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সামিউর রহমান আলভি নামের এক ব্যক্তিকে। প্রায়ই চাঞ্চল্যকর এমন অপরাধের ঘটনায় দেশ জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হচ্ছে। এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। পাঁচ মাসের মধ্যে গড়ে প্রতি মাসে পুলিশের ওপর ৫৭টি হামলার মামলা হয়েছে; আগের বছর এ সংখ্যা ছিল প্রতি মাসে ৫৪। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবনতি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো অপরাধ অপরাধই। তবে নানা কারণেই অপরাধের মাত্রায় নৃশংসতা বা বর্বরতা হয়ে থাকে। আমাদের সামাজিক অবক্ষয় হয়েছে, সহানুভূতি কমে এসেছে। এর বাইরে অপরাধীদের যদি মনে হয় “কিচ্ছু হবে না”, তাহলে এমন নৃশংসতা ঘটতে থাকে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বা নিজের ক্ষমতার অস্তিত্ব জানান দিতেও অপরাধে হিংস্রতা ছড়ানো হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের মনোবল এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। অপরাধীরা জানে পুলিশ আগের মতো সক্রিয় নয়। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীরা অপরাধ করে, না পালিয়ে তাদের হিংস্রতা দেখাচ্ছে। পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরেও এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু করা যাচ্ছে না। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার মতো উদাহরণও সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে অপরাধে হিংস্রতা, নৃশংসতা, বর্বরতার মতো ঘটনাগুলো থেকেই যাচ্ছে।’