সিলেটের কানাইঘাটে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ওই নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।
এদিকে ঘটনার পর নারীর স্বামী হোসেন আহমদ চৌধুরী আক্তারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আক্তার কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কান্দলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম চৌধুরীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলার কান্দলা গ্রামের আবদুল জব্বারের মেয়ে শাবানা বেগমের (২০) সঙ্গে বছরখানেক আগে আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ লেগেছিল। অন্তঃসত্ত্বা শাবানা বেগম সম্প্রতি তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
গত শনিবার রাত ১১টার দিকে আক্তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকা শাবানা বেগমের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। শাবানার চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে এসে দেখতে পান তার শরীরে আগুন জ্বলছে। দ্রুত শাবানাকে কানাইঘাট উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে শাবানা বেগম একটি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন। শাবানা বেগমের অবস্থাও সংকটাপন্ন।
শাবানা বেগমের বাবা আবদুল জব্বার জানান, বিয়ের পর থেকেই শাবানাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিলেন আক্তার। সন্তানসম্ভবা শাবানা কিছুদিন আগে তাই বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
শনিবার রাতে আক্তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাবানার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগায়। মেয়ের উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আবদুল জব্বার বলেন, আমি গরিব মানুষ, আমার সামর্থ্য নেই, আপনারা উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আমার মেয়েকে বাঁচান।
কানাইঘাট থানার ওসি আবদুল আউয়াল জানান, শাবানার স্বামী আক্তারকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।