জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, নারী আসন ও সংসদের উচ্চকক্ষ ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। এ দুটি বিষয়ে আজ মঙ্গলবার আবার আলোচনা হবে। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৩তম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য স্থায়ীভাবে ১০০ আসন করার ব্যাপারে সব দল একমত হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত প্রশ্ন রয়ে গেছে। এর পদ্ধতি নির্ধারণে এখনো একমত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থায় আসনসংখ্যার সংখ্যানুপাতে ৫০ আসনকে ১০০ আসনে উপনীত করা বা সরাসরি নারী আসনে নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত এ দুই প্রস্তাবে একমত না হওয়ায় বিগত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি হলো সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ভিন্নভাবে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে যেসব রাজনৈতিক দল ২৫টির বেশি আসনে প্রার্থী দেয়, তাদের মধ্য থেকে ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থী নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, উচ্চকক্ষ গঠনের ব্যাপারেও ঐকমত্য হওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে কমিশন থেকে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায়ও কিছু কিছু প্রস্তাব এসেছে, তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
আলোচনায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কমিশনের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
১০০ নারী আসনের পক্ষে বিএনপি, তবে সরাসরি নির্বাচন নয় : সালাহউদ্দিন
সংসদে ১০০ নারী আসনের পক্ষে বিএনপি। তবে এসব আসনে সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে নয়। বিদ্যমান পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ১০০ আসনে নারী সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হতে পারেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি সবসময়ই ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাজে যারা বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রেখেছেন, তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাদের সংসদের উচ্চকক্ষ বসানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে তাদের নির্বাচন পদ্ধতি কী হবে, সেটা নিয়ে ঐকমত্য হয়নি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, জাতীয় সংসদের কাঠামোগত সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নারী আসন বৃদ্ধি এবং উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নারী আসনে কোন পদ্ধতিতে প্রতিনিধিদের নির্বাচন করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি
আনুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন চায় জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, উচ্চকক্ষ গঠনে আনুপাতিক পদ্ধতি চায় তার দল। তবে তা হতে হবে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৩তম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ দল উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে একমত হয়। জামায়াতও একপক্ষে। আর সেখানে ৬৪ জেলা ও ১২টি সিটি করপোরেশন থেকে একজন করে উচ্চকক্ষে আনার বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনারই সুযোগ নেই।’ অর্ধেক আলোচনার পর নতুন প্রস্তাব আনাকে বিভ্রান্তিকর বলেও তিনি আখ্যায়িত করেন।
অন্যদিকে নারী আসন ১০০-তে উন্নীত করার বিষয়েও জামায়াত একমত বলে জানান ডা. তাহের। তবে তাও হতে হবে ভোটের পদ্ধতি অনুযায়ী। পিআর পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।