জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেনাপোলসহ সারাদেশের কাস্টমস কমিশনার পর্যায়ের ১১ জন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কাস্টমস বিভাগে আরও বদলি হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। জাতীয় বাজেট পাসের পর বিভিন্ন কাস্টমস হাউজ, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে এ রদবদল করা হলো।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. কামরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে, তবে তাকে নতুন কোনো দপ্তর দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, রাজশাহী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ বদলি কার্যকর থাকবে। জনস্বার্থে এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রযোজ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার করা হয়েছে। রাজশাহী কাস্টমসের কমিশনার মো. আবদুল হাকিম পানগাঁও কাস্টমস হাউজে বদলি করা হয়েছেন। ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্পের পরিচালক জুয়েল আহমেদকে ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমির কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা আজাদকে ঢাকা শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও কুমিল্লার কমিশনার মো. মাহফুজুল হক ভূঞা চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে। ঢাকা-২ কাস্টমসের কমিশনার খন্দকার নাজমুল হককে গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের মহাপরিচালক করা হয়েছে। রংপুরের কমিশনার ড. আবু নুর রাশেদ আহম্মেদ চট্টগ্রাম কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমিতে। গবেষণা অনুবিভাগের মহাপরিচালক অরুন কুমার বিশ্বাস রংপুর কাস্টমসে।
সম্প্রতি এনবিআরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িত থাকা, বদলির আদেশ অমান্য করা এবং চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতির মতো ঘটনার জেরে কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং ১৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এনবিআর চেয়ারম্যানের সই করা দুটি পৃথক আদেশে আয়কর ও শুল্ক বিভাগের ১৪ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। বরখাস্ত কর্মকর্তারা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বরখাস্ত কর্মকর্তারা এ সময় খোরপোশ ভাতা পাবেন।