গজারিয়ায় দুই যুবককে হাতুড়ি ও চাপাতি দিয়ে পিটিয়ে জখম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সিএনজি ভাড়া নিয়ে শুরু হওয়া একটি কথাকাটাকাটির জেরে দুজন যুবককে হাতুড়ি ও চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই সুপারস্টার নামে একটি ইলেকট্রিক্যাল প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের একজন, পুরান বাউশিয়ার নীল কুটিপাড়ার বাসিন্দা মৃত কামাল মিয়ার ছেলে সবুজ (২৪), বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপরজন হলেন ভবেরচরের নয়াকান্দি গ্রামের সুরুজ প্রধানের ছেলে সুজন প্রধান (২৭), যিনি বর্তমানে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় সুজন প্রধান তাঁর দেড় বছর বয়সী অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে স্থানীয় একটি হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। পথে গাড়ির ভাড়া নিয়ে চালকের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। পরে কিছু পথচারীর মধ্যস্থতায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার রাতে সুজন ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে সুপারস্টার কোম্পানির ফটকের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত ওই চালকের নেতৃত্বে ১০–১২ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রসহ তার গতিরোধ করে গালিগালাজ শুরু করে।

পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখে সুজনের বন্ধু সবুজ এগিয়ে এসে গালিগালাজ না করতে অনুরোধ করেন। এরপর দুজনই ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলে পড়ে। হাতুড়ি, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় তারা।

তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা খুনের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সবুজকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসাধীন সুজন প্রধান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হামলাকারীদের নাম জানেন না। তবে কয়েকজনের মুখ তাঁর পরিচিত এবং তারা আনারপুরা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানান।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এ পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’