রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। একই দিন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল হওয়ায় ওয়েবসাইটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক যুক্ত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষের (ইসি সচিবালয়) নির্দেশনায় এটা সরানো হয়েছে।
নৌকা প্রতীক রাখা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার খসড়া সংশোধন ঘিরে। এই খসড়ায় ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ তাতে বহাল রাখা হয়, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। গত রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা থেকে ‘নৌকা’ বাদ দেওয়ার দাবি জানায় এনসিপি নেতারা। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক ফেসবুক পোস্টে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে লেখেন, অভিশপ্ত ‘নৌকা’ মার্কাটাকে আপনারা কোন বিবেচনায় আবার শিডিউলভুক্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেন? সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই গণঅভ্যুত্থানকে আপনারা জাস্ট বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন। কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এবং কাদেরকে দেওয়ার জন্য এই মার্কা রাখছেন আপনারা?
তবে ইসির প্রতীক তালিকার তফসিল থেকে নৌকা বাদ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি নির্বাচন কমিশন। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও নির্বাচন কমিশনের প্রতীক তালিকায় নৌকা থাকবে।
তিনি বলেছিলেন, প্রতীক কখনো নিষিদ্ধ হয় না। নৌকা প্রতীক একটা পার্টির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রতীকের মালিক তো নির্বাচন কমিশন। দলের নামে প্রতীক যখন অ্যালটমেন্ট বা অ্যালোকেশন করা হয়েছে, দল তো বাতিল হয়নি। পার্টি তো আছে। পার্টি যদি বাতিলও হয়, প্রতীক তো বাতিল হবে না। পার্টি বিলোপ হলেও প্রতীক ইসির কাছে থাকবে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। এসব রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ইসির তফসিলভুক্ত প্রতীকের সংখ্যা ৬৯টি। সম্প্রতি ইসি এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১১৫টি করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে।