জান্তার সর্বশেষ বড় ঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের আক্রমণ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকার ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। কায়াকফিউ টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ চৌকির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি। এই ঘাঁটি ঘিরে সংঘর্ষ এরই মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ চৌকি মিয়ানমারের সামরিক নৌঘাঁটি দান্যাওয়াদ্দির মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, দান্যাওয়াদ্দি নৌঘাঁটির আশপাশে অন্তত এক ডজন চৌকি স্থাপন করেছে জান্তা বাহিনী। এর মধ্যে কাতথাব্যায় গ্রামে অবস্থিত একটি চৌকিতে চলতি মাসের শুরু থেকে টানা হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।

কায়াকফিউর এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নৌঘাঁটির কাছে টানা ছয়দিন ধরে সংঘর্ষ চলছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রচুর ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে। এএর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, চৌকিটি নৌঘাঁটি রক্ষায় জান্তা বাহিনীর মূল অবস্থান। এটি দখলে গেলে অন্যান্য চৌকির পতন ঘটতে পারে এবং নৌঘাঁটি বিপদের মুখে পড়বে। এএ এরই মধ্যে কায়াকফিউ শহরের সঙ্গে দান্যাওয়াদ্দি নৌঘাঁটির সংযোগকারী সড়ক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং ওই পথে থাকা জান্তা বাহিনীর তিনটি অবস্থান দখল করেছে। রাখাইন রাজ্যের ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এএ। কায়াকফিউয়ে জান্তার একাধিক অবস্থান ঘিরে ফেলেছে তারা।

এ ছাড়া, চীনের সহায়তায় নির্মিত গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি অনশোর গ্যাস টার্মিনাল রক্ষায় নিযুক্ত জান্তা বাহিনীর অবস্থানেও সংঘর্ষের খবর মিলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, এই তিন এলাকায়ই তীব্র লড়াই চলছে। জান্তা বাহিনী খুব বেশি বিমান হামলা চালাচ্ছে না, তবে প্রতিদিনই ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘর্ষে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। রাখাইনে এখন শুধু তিনটি শহররাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে ও মানাউংসহ জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।