প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকার নিয়ে বিচারপতি নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ নিয়ে অতীতে নানা আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। সংবিধানের আলোকে শর্ত সাপেক্ষে অধস্তন আদালতের বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে থেকে বিচারপতি নিয়োগ হলেও এতদিন ছিল না সুনির্দিষ্ট কোনো আইন। এবার উচ্চ আদালতের ইতিহাসে বিচারপতি নিয়োগ হচ্ছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে। গতকাল শুক্রবার বিচারপতি হতে ইচ্ছুক ৫৯ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার নিয়েছে কাউন্সিল। উচ্চ আদালতে বিচারক হতে ইচ্ছুক প্রথমবারের মতো বসলেন পরীক্ষায়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (দুপুরে ১ ঘণ্টার বিরতি) প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল।

গত ২১ জানুয়ারি ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর আলোকে প্রধান বিচারপতিকে চেয়ারপারসন করে সাতজনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল।’ এরপর গত ২৮ মে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ গণবিজ্ঞপ্তি ও আবেদন আহ্বানও উচ্চ আদালতে বিচারিক ইতিহাসে প্রথম। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০০ জনের মতো আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে থেকে ৫৯ জনকে বাছাই করে কাউন্সিল। তাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর ৩০০ জনের মতো প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করে আজ (গতকাল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে সেটি কাউন্সিলের বিষয়।’