'বন্ধুত্ব প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা জানার জানালাও খুলে দেয়,' সালমানের কথার জবাবে লিটন

মিরপুরের গ্যালারির কোলাহল এখনও না জাগলেও ক্রিকেট যেন নিঃশব্দে শান নিচ্ছে তরবারি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান—দুই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠে নামার আগে কৌশলের খেলা শুরু হয়ে গেছে সংবাদ সম্মেলনের টেবিলেই।

কাল সন্ধ্যা ৬টায় শেরে বাংলায় শুরু হবে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম লড়াই। তার আগের দিন আজ মিরপুরে মুখোমুখি হলেন দুই অধিনায়ক—বাংলাদেশের লিটন দাস ও পাকিস্তানের সালমান আলি আগা। বললেন প্রস্তুতির কথা, পরিকল্পনার খুঁটিনাটি আর শেয়ার করলেন ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে আসে।

পাকিস্তানের অধিনায়ক জানালেন, বিপিএলে খেলা ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন তারা। আর লিটন জানালেন, শুধু ওরাই নয়—আমরাও জানি কন্ডিশন, আমরাও প্রস্তুত। গলির মাথায় যুদ্ধের আগে এমন কথার পাল্টাপাল্টিই যেন বড় লড়াইয়ের আগমনী সুর।

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগা সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা পাকিস্তান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তার ভাষায়, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিপিএল খেলেছে। যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের ইনপুট ও অভিজ্ঞতা নেওয়া। তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা তাদের ইনপুট দিয়েছে, আমরা ওই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’

পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে সালমানের কথার জবাব দিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। জানালেন, ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন থাকে, তেমনি তৈরি হয় বন্ধুত্বও। সেই বন্ধুত্বই কখনো কখনো প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা জানার একধরনের জানালাও খুলে দেয়।

লিটনের কথায়, ‘ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মজাই আলাদা। অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, ড্রেসিংরুম ভাগ হয়। ওরা আপনার শক্তি-দুর্বলতা জানতে পারবে। আপনিও পারবেন। ওরা বিপিএল খেলে কন্ডিশন বা সব জানে বলে সমস্যা হবে না। কারণ আমরাও জানি।’

অর্থাৎ, কন্ডিশন এই সিরিজে বড় ফ্যাক্টর হলেও একতরফা সুবিধা কেউই পাচ্ছে না। দুই দলই জানে একে অপরের ধরন, খেলার ধরন, মাঠের চরিত্র। সেই লড়াইয়েই আজ মাঠে গড়াবে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প।