কোনো শ্রমিককে কোনো মালিক কালো তালিকাভুক্ত করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। বাংলাদেশের শ্রম আইন যুগপোযোগী করার মাধ্যমে এ বিধান যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতকাল শনিবার বিকালে সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা বালু মাঠে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ পালন উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে এ কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, আমাদের অনেকগুলো প্রকল্প আছে। প্রথমত আমরা চেষ্টা করছি শ্রম আইন যুগোপযোগী করার। এর মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত শিথিল করেছি, কোনো শ্রমিককে কোনো মালিক কালো তালিকাভুক্ত করতে পারবে না। এটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং এটা করতে গেলে মন্ত্রণালয়ের কাছেই আমরা ক্ষমতাটা রাখতে চাচ্ছি।
তিনি বলেন, শুধু কলকারখানা নয়, যেসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন প্রত্যেককেই এই আইনের আওতায় আনার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেভাবেই কাজ হচ্ছে। আজই (শনিবার) নির্দেশ দিলাম, বাংলাদেশে বহু বড় বড় ক্লাব আছে, যেসব ক্লাবে শ্রমিকরা আছে, সেসব ক্লাবে শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ারটা (কল্যাণ) দেখার জন্য।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রত্যেকটি সামাজিক ক্লাবে যেখানেই শ্রমিক আছে তাদের বাংলাদেশ লেবার অ্যাক্টের নিচে আসতে হবে, শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ার দেখতে হবে। আমি শুধু মুখে বলে গেলাম তাই নয়, এবং তাদের লভ্যাংশের ০.৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে তহবিলে জমা দিতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, ইতিমধ্যে গত ৮ মাসে বহু ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিককে যথেষ্ট পরিমাণে আমরা ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। এমনকি কিছুদিন আগে একটি নৌ দুর্ঘটনায় ৭ জন শ্রমিককে নগদ ৭ লাখ টাকা হারে দিয়েছি।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদসহ আরও অনেকে।