ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। কয়েকটি রাজনৈতিক দল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রেখেছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘চ্যালেঞ্জ হলেও নির্বাচন সম্ভব।’ সর্বশেষ গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে।’
ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল নির্বাচন হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। যদিও নির্বাচনের মাস-তারিখ নির্দিষ্ট হয়নি। ইতিমধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে তারা বিশেষ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। সর্বোপরি ভোটের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ। তবে পুলিশের জনবল, যানবাহন, আগ্নেয়াস্ত্রসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সংকট থাকায় প্রস্তুতির ঘাটতিও রয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের বৈঠকে ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ছাড়া পুলিশসহ পর্যবেক্ষকরা বুথের ভেতর প্রবেশ করতে পারবেন না। ব্যালট পেপার রাতের বেলায় না পাঠিয়ে সকাল ৭টার মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, আমরা ততই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে পুলিশে। জনবল ও যানবাহন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগে থেকেই বাহিনীতে যানবাহন ও জনবল সংকট ছিল। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঠপর্যায়ের যানবাহনগুলো। নির্বাচনে পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিরপেক্ষ থাকবে। সরকারও আমাদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছে।’
নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের বিশেষ প্রস্তাবনা : পুলিশ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ নানা কৌশলে এগোচ্ছে। প্রতিনিয়তই ঊর্ধ্বতনরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। রাতের ভোট বা কোনো প্রার্থীর পক্ষে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে। বেশ কিছু সমস্যার মধ্যেও পুলিশ সদর দপ্তর বেশ কিছু প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুলিশের জনবল, যানবাহন ও আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ছাড়া পুলিশসহ পর্যবেক্ষরা বুথের ভেতর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও ব্যালট পেপার রাতের বেলায় না পাঠিয়ে সকাল ৭টার মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচনে কোনো পেশিশক্তি যে দেখাবে, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি তদবির করতে এলে তাকেও তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার বা আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মধ্যমে সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে দলমত-নির্বিশেষে অপরাধীদের ধরা হবে। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ করতে পদোন্নতির বিষয়টি জরুরি আমলে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবনাগুলো সরকারের নীতিনির্ধারকরা যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা সংগ্রহের নির্দেশ : নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও সব কটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে প্রার্থীদের আমলনামা খুঁজতে বার্তা পাঠানো হয়।
বার্তায় বলা হয়েছে, যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তাদের স্বজনরা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা সমর্থক হলেও তার বিবরণ থাকতে হবে। কার বিরুদ্ধে কটি মামলা আছে, কতকাল জেল খেটেছেন, এলাকায় সুনাম কী ধরনের, কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন কি না, তাও প্রতিবেদনে থাকতে হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১১টি বিষয়ে তথ্য জানতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রার্থীর দলীয় পদ-পদবি, অতীত-বর্তমানের অপরাধনামা, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিস্তারিত পরিচয় থাকবে প্রতিবেদনে। যারা প্রার্থী হবেন, তাদের সামাজিক প্রভাব, শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড, সহিংসতা উসকে দেওয়ার ইতিহাস, চাঁদাবাজির অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঘাটতির মধ্যেও নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি : ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবলরা অনুপস্থিত আছেন। যারা অনুপস্থিত আছেন, তাদের সংখ্যা ২ শতাধিক। তা ছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টরসহ প্রায় ১০০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আবার অনেককে বিভিন্ন ইউনিটিতে সংযুক্ত করার ফলে পদগুলো ফাঁকা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের জনগণের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা অনেক কম। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার জনবল বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জনবল সংকটের মধ্যেও পুলিশ প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতনরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। ওইসব বৈঠকে নানা সমস্যার কারণে পুলিশের প্রস্তুতির ঘাটতির কথাও আলোচনা হচ্ছে। বৈঠকে বলা হয়, একযোগে সারা দেশের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় যানবাহন সংকট সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন যেমন এক থানার গাড়ি দিয়ে আরেক থানায় সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের সময় তো একযোগে সব থানাতেই যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে। তখন এক থানা থেকে অন্য থানায় গাড়ির সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে না। তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচনের সময় কোথায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করতে হবে, কোন এলাকায় মোবাইল টিম বা র্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে তা নির্ধারণ করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের সময় দেখা গেছে, পুলিশের জনবল সংকটের কারণে নিরাপত্তা দিতে সমস্যা হয়েছে।
যানবাহন প্রকট, কেনার উদ্যোগ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১০৫টি থানা, পুলিশ ফাঁড়িসহ অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের সব মিলিয়ে ৪৫৫টি যানবাহন ভস্মীভূত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১৩টি জিপ, ১৭৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ, ৫৬টি সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ, ১২টি প্যাট্রল কার, ১২টি মাইক্রোবাস, ২টি অ্যাম্বুলেন্স, ৩ টন ও ৫ টনের ১২টি ট্রাক, ২টি বাস, ২টি প্রিজন ভ্যান, ১৫৬টি মোটরসাইকেল, ৮টি রেকার, ৪টি এপিসি, ১টি জলকামান ও ২টি ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট ভ্যান। এগুলো মেরামতের অযোগ্য হয়ে আছে। যানবাহনের সংকট কাটিয়ে পুলিশের কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতি আনতে ৩৮টি জিপ, ২৫০টি ডাবল কেবিন পিকআপ, ৫৬টি সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ, ১২টি করে প্যাট্রল কার ও মাইক্রোবাস, ২টি অ্যাম্বুলেন্স, ২০টি ট্রাক, ২টি বাস, ১২টি প্রিজন ভ্যান, ২৮৫টি মোটরসাইকেল, ৮টি রেকার, ৪টি এপিসি, ১টি জলকামানসহ ৭২২টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন যান কেনার জন্য অতিরিক্ত ৩৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
কত টাকা দিয়ে কেনা হবে যানবাহন : পুলিশ সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এপিসি ও রেকার কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাকি যানবাহন কেনা হবে স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে। প্রতিটি জিপের দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, প্রতিটি ডাবল কেবিন পিকআপ ৮০ লাখ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ ৬৫ লাখ টাকা, প্যাট্রলকার ৪৮ লাখ টাকা, একেকটি মাইক্রোবাস ৬০ লাখ, মোটরসাইকেলের দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০ টনের প্রতিটি রেকারের দাম ২ কোটি এবং প্রতিটি এপিসির দাম ৬ কোটি এবং ১টি ডগভ্যানের দাম ৭৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
ভোগান্তি বেশি মাঠপর্যায়ের সদস্যদের : মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বলছেন, পুলিশে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। থানার তুলনায় জনবল অনেক কম। কোনো ঘটনা ঘটলে সহজে যাওয়া যায় না। পুলিশ যাওয়ার আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যাচ্ছে। থানাগুলোর রুটিন ডিউটি পালন করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। মোটরসাইকেল ও ডাবল কেবিন পিকআপ সংকট থাকায় আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে থানা-পুলিশের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন।
বিভাগ অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তাব পুলিশের : জাতীয়সহ যেকোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এক দিনে সব নির্বাচন না দিয়ে বিভাগ অনুযায়ী নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এতে পেশিশক্তির প্রভাব কমে যাবে। পুলিশের নানা সমস্যা থাকলেও এ ক্ষেত্রে অন্য জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে আসা যাবে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে একটি জেলার পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার আমাদের পুরো স্বাধীনতা না দিলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা যাবে না। কোনো রাজনৈতিক নেতারা থানা বা এসপি অফিসে এসে খবরদারি করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে সহজেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এক দিনে নির্বাচন না করে ভাগ অনুপাতে করতে পারলে আরও ভালো হবে। একেক দিন একেক বিভাগে নির্বাচন হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। রাজনৈতিক দলগুলো শক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। নির্বাচনের ক্ষেত্রে অস্ত্রবাজগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়বে। এতে পুলিশের ওপর চাপ কমে আসবে অনেকাংশে।
আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় ও বিদেশি প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ : ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের স্থাপনাগুলো থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার করা হয়নি। আর এজন্য বেশ কিছু অস্ত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য আরও জোরদারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়ার শঙ্কা আছে। আন্দোলনের সময় চায়না রাইফেল লুট হয় ১ হাজার ১০৬টি, উদ্ধার হয় ৯৯১টি। রাইফেল-টি লুট হয় ১২টি, উদ্ধার ১১টি। এসএমজি-৫৬ লুট হয় ২৫১টি, উদ্ধার হয় ২২১টি। এলএমজি-৫৬ লুট হয় ৩৪টি, উদ্ধার হয় ৩১টি। পিস্তল লুট হয় ৫৩৯টি, উদ্ধার হয় ৩২৫টি। মিলিমিটার পিস্তল লুট হয় ১০৯২টি, উদ্ধার হয় ৬৩০টি। এসএমটি লুট হয় ৩৩টি, উদ্ধার হয় ৩৩টি। বোর শটগান লুট হয় ২ হাজার ৭৯টি, উদ্ধার ১ হাজার ৬৭৫টি। গ্যাসগান লুট হয় ৫৮৯টি, উদ্ধার হয় ৪৫৮টি। টিয়ারগ্যাস লাঞ্চার লুট হয় ১৫টি, উদ্ধার হয় ৮টি। সিগন্যাল পিস্তল লুট হয় তিনটি, উদ্ধার হয় ১টি। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২টি, উদ্ধার হয় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭টি। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখনো অনেক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের সময় পুলিশের যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকার উন্নতরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষক আনার পরিকল্পনা নিয়েছে।