বাংলাদেশের কাছে ১১০ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হারের পর মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নিউজিল্যান্ড ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাবেক কোচ হেসন বলেছেন এই উইকেট টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ নয়।
হেসন বলেছেন, 'আমার মনে হয় এই উইকেট কোন পক্ষের জন্যই আদর্শ নয়। দলগুলো এশিয়া কাপ বা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যদিও এসব ব্যাট হাতে আমরা যেসব ভুল করেছি তার জন্য এগুলো কোন অজুহাত হতে পারে না। তবে এই উইকেট কোন ভাবেই আন্তর্জাতিক মানের নয়।'
তবে একই সঙ্গে হেসন বলেছেন, ফখর জামানের ব্যাটিং তাদের ড্রেসিং রুমে ভুল বার্তা ছড়িয়েছে, 'আমাদের শুরুটা বেশ ভাল হয়েছিল, ফখর চার পাঁচটা ভাল শট খেলেছিল। সেটা আমাদেরকে উইকেট সম্পর্কে একটা ভুল বার্তা দেয়।মাঝের ওভারগুলোতে আমরা ভাল করিনি, খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এরপর বল যখন নিচু হচ্ছিল, তখন আচমকা লাফাচ্ছিল তখন আমরা বিপদটা বুঝতে পারিনি, তখন আমাদের উচ্চ ঝুঁকির শটগুলো খেলা ঠিক হয়নি। কয়েকটা রানআউটও বিপদ বাড়িয়েছে।'
বাংলাদেশের নিজ দেশের বাইরে সাফল্য না পাওয়ার অন্যতম কারণ এরকম উইকেটে খেলা, এমনটাই মনে করেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হেসন, 'আমার মনে হয় বাংলাদেশ দল যখন বাইরে খেলতে যাবে তখন এই অভিজ্ঞতা তাদের খুব একটা কাজে আসবে। একই সঙ্গে আমার মনে হয় এই রকম পরিস্থিতিতে আগে ব্যাটিং করাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে এখানে ১০০, ১৩০ না ১৫০; কত রান যথেষ্ট হবে সেটা আগে বুঝতে না পারাটা। আমার মনে হয় না এই উইকেট কোন পক্ষের জন্যই ভাল কিছু বয়ে আনবে। তবে তার মানে এই নয় যে যেকোন উইকেটেই ভাল পারফর্ম করে ম্যাচ জেতাটা জরুরি। আমাদের একটা দল হয়ে এই পরিস্থিতি থেকে উৎরে যেতে হবে'।'
একটা সময় বাংলাদেশের কোচ হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন হেসন, পরে বিসিবি'র সঙ্গে বনিবনা হয়নি তার। বাংলাদেশের উন্নতিতে পরামর্শ চাইলে হেসন খানিকটা বিরক্ত হয়েই বলেছেন, 'আমি এখানে বাংলাদেশের উন্নতিতে অবদান রাখতে আসিনি। ভাল ক্রিকেটার তৈরির জন্য ভাল উইকেট দরকার। এখানে বিপিএলের সময় বেশ কিছু ভাল উইকেট দেখা গেছে। সত্যি কথা বলতে, যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয় তখন এখানে ভাল উইকেট চোখে পড়ে না।'
ইমনের ব্যাটে জবাব, উইকেট নিয়ে হেসনের মতের সঙ্গে দ্বিমত
বাউন্সি পিচে খেলতে উপভোগ করেছেন ইমন। যদিও কিছু বল প্রত্যাশার চেয়ে কম লাফিয়েছে কিংবা ধীরে এসেছে, তবুও নিজের ইনিংস নিয়ে সন্তুষ্ট এই বাঁহাতি ব্যাটার। ক্যাচ মিসের সুবাদে বেঁচে যাওয়ার পর দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। তবে খেলার পর উইকেট নিয়ে কোচ মাইক হেসনের মন্তব্যে একমত নন ইমন।
“এমন কিছু না (এই উইকেট আন্তর্জাতিক ম্যাচের উপযোগী নয়)। আমরা ১৬ ওভারে ১১০ রান করেছি। ২০ ওভার খেলতে পারলে ১৬০ হতো। আমার তো তেমন কিছু মনে হয়নি। হয়তো ওরা মানিয়ে নিতে পারেনি, কিন্তু আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি,” বললেন ইমন।
দেশীয় কন্ডিশনে ফিরে কী পরিকল্পনা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই পরিকল্পনা ছিল যত দ্রুত উইকেট বুঝতে পারবো, তত ভালো। আমরা ভালোই করেছি। হ্যাঁ, শুরুতে দুইটা উইকেট পড়েছে, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এটা স্বাভাবিক।”
এই ম্যাচে ইমনের পাঁচটি ছক্কার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল সালমান মির্জার একটি বলকে এক হাতে লং অন দিয়ে মারা ছক্কা। সেই শটেই বোঝা যায় উইকেটে যথেষ্ট বাউন্স ছিল।
“উইকেটে ভালো বাউন্স ছিল। হয়তো দুই একটা বল ফাটলের কারণে নিচু হয়েছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে উইকেট ভালো ছিল,” মন্তব্য করেন তিনি।
ইমনের দ্রুতগতির হাত তাকে বলের লেন্থ বুঝে খেলার সুযোগ দিয়েছে। ইনিংস গুছিয়ে খেলেছেন হিসেব করে, বুঝে শট নির্বাচন করেছেন। এমনকি এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তানি বোলিং আক্রমণ কি খুবই সহজ মনে হয়েছে?
সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট জবাব দেন ইমন, “আপনি ভালো খেললে সহজ মনে হতেই পারে, কিন্তু ওদের দলে অভিজ্ঞ বোলার আছে, যারা অনেক দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে।”
মাঠে যেমন ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরেছেন, তেমনি ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে তার বিশ্লেষণও ছিল পরিষ্কার ও পরিণত। যদিও উইকেট বিতর্ক চলতেই থাকবে, ইমনের ব্যাটে তার জবাব ছিল স্পষ্ট।