জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ

সাত মামলায় ৩৯ জন আসামির হাজিরা ট্রাইব্যুনালে

জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে। গতকাল রবিবার এক আদেশে আগামী ১৫ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এদিন এ মামলায় কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক বিচারপতি ও আমলাসহ ১৬ জনকে হাজির করা হয়। এ মামলায় গতকাল যাদের হাজির করা হয় তারা হলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, ফারুক খান, সাবেক আইন ও বিচার মন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলম। আদালতে প্রসিকিউশনপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি প্রতিবেদন দাখিলে তিন মাস সময়ের আরজি জানান। আদালত আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।

কারাগারে চক্রান্তের অভিযোগ ইনুর : শুনানিকালে কিছু কথা বলতে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান হাসানুল হক ইনু। তিনি আদালতের উদ্দেশে বলেন, এ মামলায় আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত জুন মাসে কাশিমপুর কারাগারে আমার ভয়েস রেকর্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের কোনো অনুমতি ছিল কি না, আমার জানা নেই। আদালতের কোনো আদেশ ছাড়া, কোনো উকিলের উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের ভয়েস পরীক্ষা অসৎ উদ্দেশ্যে হতে পারে। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে তদন্ত সংস্থা যেকোনো ব্যক্তির ভয়েস রেকর্ড ও ফরেনসিক পরীক্ষা করতে পারেন। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আদালতের উদ্দেশে বলেন, এভাবে আদালতের সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা তাদের (আসামি) কথা শুনব। তাদের আইনজীবীদের কথাও শুনব। প্রয়োজনে তাদের স্বজনদের কথাও আমরা শুনব।’

৭ মামলায় ৩৯ জনের হাজিরা : জুলাই-আগস্টে হত্যাকা-সহ গুমের সাত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৩৯ জন আসামিকে হাজির করা হয়। প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লিখিত আসামি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আরও যাদের হাজির করা হয় তারা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, গুলশান থানার সাবেক ওসি মো. মাজহারুল হক প্রমুখ।