নিজ দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে না পারলেও ২০২৪ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয় করেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আসরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরিয়ে নেওয়া হলেও আয় হারায়নি বিসিবি।
২০২৪ থেকে ২০৩১ পর্যন্ত দুটি আইসিসি আসরের আয়োজক দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০৩১ পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ (ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে)। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে আইসিসি টুর্নামেন্টটি ঢাকার বদলে দুবাই ও শারজাতে সরিয়ে নেয়।
তবে, আয়োজক ফি বাবদ বিসিবি পুরো অর্থই পায়, সেই সঙ্গে টিকিট বিক্রির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিসিবির মোট আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ১২ হাজার ১৪২ টাকা।
বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির মোট রাজস্ব ছিল ৬ লাখ ৫৯৫.১৮ দিরহাম। এর মধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৩২৭.৩৫ দিরহাম (মার্কিন ডলার ৭৩,৬৪২ সমমূল্য) পেয়েছে বিসিবি, যা মোট টিকিট বিক্রির ৫৫ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকার কিছু বেশি।
এই টিকিট আয়ের অংশ নিশ্চিত করেছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ, যিনি আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে সফলভাবে এই চুক্তি করেন।
অন্যদিকে, আইসিসির কাছ থেকে আয়োজক ফি হিসেবে বিসিবি পেয়েছে ৮ কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা—যা ২০২৩–২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ নারী দলের মাঠের পারফরম্যান্স থেকেও এসেছে অর্থ। অংশগ্রহণ ফি বাবদ তারা পেয়েছে ৬৭,৫০০ মার্কিন ডলার এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র জয়ের পুরস্কার হিসেবে এসেছে আরও ৩১,১৫৪ ডলার।
সব মিলিয়ে, ঘরে বসেই বিশ্বকাপ আয়োজন না করেও বিসিবি আয় করেছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ১২ হাজার ১৪২ টাকা—যা বোর্ডের জন্য একপ্রকার আর্থিক সাফল্য বলেই ধরা যায়।
মাঠ ছিল না মিরপুর কিংবা সিলেট, গ্যালারিতে ছিল না বাংলাদেশের লাল-সবুজের গর্জন। তবু আয়োজক হিসেবেই আর্থিকভাবে সফল হয়েছে বিসিবি। আগামীর বিশ্ব আসরগুলো ঘিরে এই চুক্তি ও কৌশল এখন বোর্ডের আর্থিক ভবিষ্যতের জন্য বড় দিকনির্দেশনা হয়ে দাঁড়াতে পারে।