চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড- উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাকখালী গ্রামের সখিনা খাতুনের বর্তমান বয়স ৭৮। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বয়স ছিল ২৩ বছর। সন্তান পেটে থাকা অবস্থায় পাকসেনাদের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এরপর পেটের সন্তান নষ্ট, মানসিক ভারসাম্য হারানো, গৃহবন্দি থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত জীবনের বেশিরভাগ সময় পার করে বর্তমানে বার্ধক্যে এসে উপনীত হয়েছেন। দীর্ঘদিন নিজেকে আড়াল করে রাখলেও শেষ বয়সে এসে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতির জন্য ২০২০ সালে তৎকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। আবেদনটি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখান থেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই আবেদনটি হিমঘরে চলে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীতাকুন্ড উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা বেগম তদন্ত করে ঘটনার সঠিকতা পেলেও কোনো এক রহস্যজনক কারণে প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এতে আটকে যায় সখিনা খাতুনের ভাগ্যও। লুৎফুন্নেছা বেগম শুধু যে প্রতিবেদন দাখিল করেননি, তা নয়; বরং তদন্তের নামে চার মেয়ে, স্বামী ও কয়েক মুক্তিযোদ্ধার সামনে অবান্তর প্রশ্ন করে অপমানিত করেন সখিনা খাতুনকে। এ নিয়ে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর দেশ রূপান্তরে ‘স্বামী বিএনপি করায় আটকে যায় বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে গত ৭ জানুযারি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ ৬ মাসের অধিক তদন্ত করে গত ২০ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
প্রতিবেদনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকসেনাদের হাতে সখিনা খাতুনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবেদন করে দীর্ঘদিন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও স্বীকৃতি না পাওয়া বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল বলে জানানো হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ ও সদস্য গোলাম রহমান চৌধুরী বলেন, প্রতিবেদনে সখিনা খাতুনের বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’