পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

পাকিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আনন্দে ফুটল না কোনো আতশবাজি, বাজল না বিজয়সংগীত। কারণ উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার ছিল দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক। শোকের এ আবহের মধ্যেই এলো নিরানন্দ জয়।

টসটা ফের হারলেন লিটন দাস, এবার বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠালেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। বাংলাদেশ একাদশে দুটো পরিবর্তন, উদ্বোধনে তানজিদ হাসান তামিমের বদলে নাঈম শেখ আর পেসার তাসকিন আহমেদের জায়গায় শরিফুল ইসলাম। পাকিস্তান দলে আবরার আহমেদের বদলে অভিষিক্ত আহমেদ দানিয়াল।

নাঈম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নেমেছিলেন চারে। অভিযোগ ছিল, মানসিক প্রস্তুতি ছিল না চারে খেলার। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চয়ই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি পেয়েছেন, তারপরও সূচনায় নেমে সাত বলে ৩ রানের বেশি করতে পারলেন না। লিটনও ট্রেডমার্ক আউট, মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন ৮ রান করে। এরপর তাওহিদ হৃদয় শূন্য রানে রানআউট, আগের ম্যাচের হাফসেঞ্চুরিয়ান পারভেজ হোসেন ইমনও বিদায় নেন ১৩ রান করে। ২৮ রানে ৪ উইকেটের পতনের পর পঞ্চম উইকেটে জাকের আলি অনিক আর শেখ মেহেদি হাসানের ৫৩ রানের জুটিতে বাংলাদেশের রানটা ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছায়। মেহেদি ৩৩ রান করে আউট হয়ে গেলেও জাকের টিকেছিলেন শেষ বল পর্যন্ত। ম্যাচের ১২০তম বৈধ ডেলিভারিতে আউট হওয়ার আগে জাকের করেন ৪৮ বলে ৫৫ রান, এক বাউন্ডারির সঙ্গে পাঁচ ছক্কা। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০ ওভারে ১৩৩। পাকিস্তানের সালমান মির্জা, আব্বাস আফ্রিদি ও আহমেদ দানিয়াল নেন দুটি করে উইকেট।

জয়ের জন্য ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ভুল বোঝাবুঝিতে ১ রানে রানআউট সাইম আইয়ুব। আগের ম্যাচে ফখর জামান একটি রানআউট করিয়ে নিজে রানআউট হয়েছিলেন, এবারও তার একই কাণ্ড। এরপর মোহাম্মদ হারিসকে লেগবিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন একাদশে আসা শরিফুল ইসলাম। ফখর জামানও বিদায় নেন শরিফুলের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। পরপর দুই বলে দুই ‘নাওয়াজ’, হাসান ও মোহাম্মদকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তানের স্কোর কার্ডটাকে ধ্বংসস্তূপের চেহারা দেন তানজিম হাসান সাকিব। ৪ দশমিক ৪ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে তখন ১৫ রান!

এ রকম অবস্থায় দলের ৫০ রানও মনে হতে পারে যথেষ্ট সম্মানজনক। খুশদিল প্রথমে সালমান আগা ও পরে ফাহিম আশরাফকে নিয়ে দুটো ছোট ছোট জুটি গড়ে সম্মান বাঁচান। ফাহিম আশরাফ ও আব্বাস আফ্রিদি মিলে ২৭ বলে ৪১ রানের একটা জুটি গড়ে একটা অসম্ভবকে সম্ভব প্রায় করেই ফেলেছিলেন। বিশেষ করে রিশাদ হোসেনের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারটায় প্রথম পাঁচ বলে চলে আসে ১৫ রান, এরপর জিততে দরকার ৭ বলে ১৩ রান। নিজের করা শেষ ওভারের শেষ বলে উইকেট নিলেন রিশাদ। তাতে ৩২ বলে ৫১ রান করা ফাহিম আশরাফ বিদায় নিলেন। বাংলাদেশের হারের আশঙ্কা কিছুটা কমল। শেষ ওভারে বল হাতে মোস্তাফিজ ও স্ট্রাইকে দানিয়াল। প্রথম বলেই চার, প্রেস বক্সে থাকা জনাকয়েক পাকিস্তানের সাংবাদিককে প্রথমবারের মতো খানিকটা উচ্ছ্বসিত হতে শোনা গেল। ৫ বলে ৯ রান, হতেই তো পারে! সেটা অবশ্য হতে দিলেন না মোস্তাফিজ। মিডউইকেট দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন দানিয়াল, তবে ধীরগতির অফ কাটারে বলটা হাওয়ায় ভেসে বেশিদূর এগোল না। ধরা পড়ল বাউন্ডারিতে। শামীম হোসেনের হাতে। তাতেই ৮ রানের জয় নিশ্চিত বাংলাদেশের, ১৯ দশমিক ২ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট পাকিস্তান। ম্যাচসেরা হন জাকের আলি অনিক।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। নিঃসন্দেহে আনন্দের বড় উপলক্ষ। কিন্তু শিশুদের পোড়া লাশের ওপর দিয়ে আনন্দ করার মতো পাষাণ বোধহয় এই শহরের মানুষ এখনো হয়নি। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাস সিরিজ জয় উৎসর্গ করেছেন মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের।