জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে পাকিস্তানকে ঘিরে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। গতকাল মঙ্গলবার এই অধিবেশনে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভথানেনি হরিশ বলেন, ‘ভারত যখন শান্তি, অর্থনীতি ও সমাজের বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে চলেছে, তখন পাকিস্তান ডুবে আছে সন্ত্রাস, ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝায়।’
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘ভারত একটি পরিণত গণতান্ত্রিক দেশ, উদীয়মান অর্থনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ। আর পাকিস্তান সন্ত্রাস ও ধর্মান্ধতার মধ্যে ডুবে আছে এবং বারবার আইএমএফের দ্বারস্থ হচ্ছে।’
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘বহুপাক্ষিকতা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রচার’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে হরিশ বলেন, এই বিপর্যয়ের প্রতি কোনো ধরনের সহনশীলতা থাকা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, ‘যে রাষ্ট্র নিজেই অনৈতিক আচরণে লিপ্ত, তাদের মুখে নীতি-কথা শোভা পায় না।’ তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান এমন সব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক সমাজের দৃষ্টিতে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিল পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামে ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। এর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সামরিক অভিযান চালায়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান ছিল ‘নির্দিষ্ট, সীমিত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি করেনি।’
পারভথানেনি হরিশ আরও বলেন, ৭ মে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে এবং উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। পরে ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি এসেছে পাকিস্তানের সরাসরি অনুরোধে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তিনি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছেন, সে বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ভারতের পক্ষ থেকে পরিস্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র: এনডিটিভি