গত বছরের চার দিনের রক্তক্ষয়ী ভারত-পাকিস্তান আকাশযুদ্ধের এক বছর পূর্তি ঘিরে দুই দেশেই চলছে বিজয় উদযাপন। পাকিস্তান নিজেদের ‘বিজয়ী’ দাবি করে সামরিক সাফল্য প্রচার করছে, আর ভারত স্মরণ করছে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বীরত্বগাথা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ জয় পায়নি।
পাকিস্তানে সামরিক নেতৃত্বকে ঘিরে পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে শহরগুলো। বিমানবাহিনী ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার সাফল্য উদযাপন করেছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর লোগো ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। জবাবে পাকিস্তান চালায় ‘অপারেশন বুনিয়ান আল-মারসুস’।
ভারত দাবি করেছে তারা পাকিস্তানের ১৩টি বিমান ধ্বংস ও ১১টি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা পাকিস্তান বলছে, তারা নিজেদের সামরিক শক্তির মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করেই ভারতের মতো বড় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান দিয়ে ভারতের রাফাল ভূপাতিত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানে।
যুদ্ধের পর পাকিস্তান ‘রকেট ফোর্স কমান্ড’ চালু করেছে এবং নতুন দূরপাল্লার ফাতাহ সিরিজের রকেট যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাজেটও ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ভারতও সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা এবং পাকিস্তানের বাড়তে থাকা কূটনৈতিক সক্রিয়তা নয়াদিল্লির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ভারত সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করায় পাকিস্তানের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা, দুই দেশই এখন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু আস্থার সংকট কাটেনি। কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সংঘাতের আশঙ্কা এখনও রয়ে গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা