অবিশ্বাস্য জয়ে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ইংল্যান্ড

ম্যাচের মূল ৯০ মিনিট শেষ হয়ে গেছে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিট পর্যন্তও এগিয়ে ছিল ইতালি। পরের মিনিটে বদলি নামা মিশেল অগায়েমাংয়ের গোলে সমতা এবং শেষে ১১৯ মিনিটে আরেক বদলি ক্লোয়ি কেলির গোলে মেয়েদের ইউরোর ফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। গতকাল রাতের সেমিফাইনালে তারা ইতালিকে হারিয়েছে ২-১ গোলে।

জেনেভা স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩৩ মিনিটেই বারবারা বোনানসার গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বদল দখলে তারাই এগিয়ে ছিল। কিন্তু খেলার মূল সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। যোগ করা সময়ের ৬ষ্ঠ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরান বদলি হিসেবে নামা মিশেল অগায়েমাং। শেষ মুহূর্তের এই গোলেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেন ভোজবাজির মতো বদলে যায় সব!

অতিরিক্ত সময়েও চমকের ঘাটতি ছিল না। ম্যাচটা যখন টাইব্রেকারে যাওয়ার অপেক্ষায়, তখনই  ১১৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। আর সেখান থেকে প্রথম শটে ব্যর্থ হলেও রিবাউন্ডে গোল করে বসেন আরেক বদলি খেলোয়াড় ক্লোয়ি কেলি। ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে টানা তৃতীয় ফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এর আগে তারা ২০২২ ইউরো এবং ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। গত ইউরোতে এই ক্লোয়ির যোগ করা সময়ের গোলেই জার্মানিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে ২০২৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।

এবারের ইউরোতে এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা নয়। জুরিখে সুইডেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও ২৫ মিনিটের মধ্যে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তারা ম্যাচ নিয়ে যায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুট আউটে তারা জিতে যায় ৩–২ গোলে। ফাইনালে ওঠার প্রতিক্রিয়ায় ইংলিশ কোচ সারিনা ভাইগমান বলেছেন, ‘আমরা কোনো একদিন এই ঘটনা নিয়ে সিনেমা বানাব। সত্যি বলতে, এটা যেন সিনেমাই ছিল। অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।’