বাংলাদেশের পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, সেই শুল্কের হার কিছুটা কমানো হবে বলে আশা করছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, তৃতীয় দফার আলোচনা করতে ১ আগস্টের আগেই বাণিজ্য উপদেষ্টা প্রতিনিধিদল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
বাংলাদেশের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে। এর মধ্যে দর কষাকষির আলোচনার জন্য বাংলাদেশর প্রস্তুতি কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আগামী ১ আগস্টের আগেই বাণিজ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। আমরা আশা করছি শুল্ক হয়তো কিছুটা কমাবে। কারণ, আমাদের ঘাটতি তো খুবই কম। ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মতো।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর যুক্তি হচ্ছে, আমরা একটু ডাইভার্সিফাই করতে চাচ্ছি। অনেক সময় রাশিয়ান ব্লক কিংবা ইউক্রেন ব্লকে একটা অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন আমাদের আমদানি বাড়ানোর নেগোশিয়েশন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান ভালো।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গমের দাম তুলনামূলক বেশি বলে সমালোচনা রয়েছে। সরকার রাশিয়া ইউক্রেন থেকে যে দামে গম কিনে তার চেয়ে প্রতি টনে ২৫-৩০ ডলার বাড়তি খরচ পড়বে। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দাম একটু বেশি হলেও আমরা অন্যদিকে দিয়ে সুবিধা পাব। এই (যুক্তরাষ্ট্রের) গমের প্রোটিনও কিছুটা বেশি। প্রোটিন খুব বেশি তা নয়, তবে একটু বেশি।’
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লবিস্ট নিয়োগের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এক্ষেত্রে লবিস্ট নিয়োগের প্রসঙ্গ নেই। কারণ, লম্বা সময় নিয়ে কোনো নেগোশিয়েশনের ক্ষেত্রে এ ধরনের লবিস্ট নিয়োগ করা হয়। এখানে যা করতে হবে কুইক করতে হবে। ওরা তো ঢুকতেই পারবে না, ওই অফিসের কাছাকাছি। নেগোশিয়েশন তো দূরের কথা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ভালো ইমেজ আছে। সম্প্রতি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি, মেটলাইফের কতগুলো বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছি। বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে ইউএস চেম্বার আমাকে চিঠি লিখেছে।
আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেড় লাখ টন সার অমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইউরিয়া ও টিএসপিসহ বিভিন্ন রকম সার রয়েছে। এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছি।
জানা গেছে, এ বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ৭ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৯১ টাকা ৮৮ পয়সা কেজি দরে এই মসুর ডাল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
মসুর ডাল কেনার পাশাপাশি সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৫২২ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৯ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ’র দাম ধরা হচ্ছে ১২ দশমিক ৪৩ মার্কিন ডলার।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ৭ হাজার টন মসুর ডাল কেনার জন্য বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব উপস্থান করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা অনুমোদন দিয়েছে।
কেবিসি এগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই মসুর ডাল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ধরা হয়েছে ৯১ টাকা ৮৮ পয়সা।