মাহেরীনের বীরত্বের প্রশংসা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একইসঙ্গে হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম লিখেছেন, ঢাকার একটি স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর শুনে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। বহু প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক।

এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকারদের মধ্যে ছিলেন মাহেরীন চৌধুরী, একজন শিক্ষিক, যিনি সাহসিকতার সঙ্গে তার শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান এবং এরপর ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে আরও শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে ফিরে যান। তার এই অসীম সাহস ও আত্মত্যাগ কখনো ভোলার নয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখে জানাব যে, এই শোকের সময়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ভাই-বোনদের পাশে রয়েছে। আমরা প্রত্যেকটি প্রাণহানিতে শোকাহত এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’ এদিকে শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ী চৌধুরীপাড়ায় মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিস্থলে যান তারা। এ সময় আলাদা আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ও পুলিশ সুপার এ.এফ.এম তারিক হোসেন খান। পরে তারা মাহেরীন চৌধুরীর মৃত্যুতে পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বলেন, একজন শিক্ষিকার এমন আত্মত্যাগ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

এ সময় মরহুমার স্বামী মনছুর হেলাল, দুই সন্তান আয়ান রহীদ মিয়াদ চৌধুরী ও আদিল রহীদ মাহিব চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় পুরো পরিবেশটি ছিল আবেগঘন। এ সময় জলঢাকাবাসীর পক্ষে শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ও সম্মাননা দেওয়ার দাবি জানানো হয় ।

এদিকে বিশিষ্ট লেখক ও আলোচক ফাহাম আব্দুস সালাম শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীকে নিয়ে একটি আবেগঘন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সত্যিকারের বীরত্বের ঘটনা কম ঘটে। একজন মহিলা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও এতগুলো শিশুকে উদ্ধার করেছেন- এর সমতুল্য ঘটনা সম্ভবত আমি আমার জীবনে শুনি নাই বাংলাদেশে।’

গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ফাহাম আরও লিখেছেন, এমন মহিয়সী নারীকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ও সম্মাননা দেওয়া উচিত। আপনারা যারা সরকারে আছেন, অবশ্যই বিবেচনা করবেন। মানুষের সাহস কোনোদিনে ইউনিফর্ম পরে না। আমরা এই মহিলার সাহসকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চাই। আসুন আমরা এই মহান মহিলার জন্য আল্লাহর কাছে হাত তুলি।

গত সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। কিন্তু তার আগেই ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বের হয়ে আসেন মাহেরীন। সামান্য আঘাতও পান তিনি। কিন্তু ভেতরে আটকাপড়ে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে ও উদ্ধারে তিনি পুনরায় ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে আগুন থেকে উদ্ধার করেন মাহেরীন চৌধুরী। উদ্ধারের সময় তিনি শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।