ফুলহ্যামের পেশাদার চুক্তিতে ফারহান, গর্বের মুহূর্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণের

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহ্যাম এফসির সঙ্গে প্রথমবারের মতো পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার ফারহান আলি ওয়াহিদ। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার দীর্ঘদিন ধরেই ফুলহ্যামের ইয়ুথ সিস্টেমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ধারাবাহিক উন্নতির ধারায় এবার মূল দলে জায়গা করে নিলেন তিনি। চুক্তির বিস্তারিত শর্ত না জানা গেলেও, ক্লাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফুলহ্যাম এফসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের একাডেমির দুই তরুণ ফুটবলার ফারহান আলি ওয়াহিদ ও টম উইঙ্গেট প্রথমবারের মতো পেশাদার চুক্তিতে সই করেছেন।

১৮ বছর বয়সী এই লেফট উইঙ্গার চেলসি একাডেমি থেকে ফুলহ্যামে এসেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ে। এরপর মোটসপুর পার্কে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন ফুলহ্যামের ইয়ুথ র‍্যাঙ্কিংয়ে। গত মৌসুমে ইনজুরিতে কেটেছে সময়ের একটা বড় অংশ, তবুও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে ২০ ম্যাচে ৭ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ফুলহ্যামের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়েও অভিষেক হয়েছে তার, যেখানে পিএসভির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগ ইন্টারন্যাশনাল কাপে বদলি নেমেই গোল করেছিলেন তিনি।

পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষরের পর ফারহান বলেন, 'এই অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো কঠিন। আমি ছোটবেলা থেকে যেটার জন্য লড়াই করে এসেছি, আজ সেটা বাস্তব হয়েছে। এটা দারুণ এক অনুভূতি। ফুলহ্যামে অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ে যোগ দিয়েছিলাম। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি। বয়সভিত্তিক দলে দারুণ কিছু সতীর্থ পেয়েছি, যারা আমাকে সবসময় আপন করে নিয়েছে।'

ফারহান আরও যোগ করেন, 'আমার পরিবার সবসময় আমার পাশে ছিল। আমার স্বপ্নপূরণে তারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তারা আমাকে সবসময় পরামর্শ দিয়েছে, বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।'

অন্যদিকে, টম উইঙ্গেট ফুলহ্যামে এসেছেন ব্রেন্টফোর্ড থেকে। ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে গত মৌসুমে ২৫ ম্যাচে করেছেন ১৭ গোল, যার মধ্যে শেষ ৬ ম্যাচেই করেছেন ৭টি। নটস কাউন্টির বিপক্ষে এফএ ইয়ুথ কাপে হ্যাটট্রিক করে জিতেছিলেন ৪-০ গোলে।

এছাড়া জার্মানিতে অনুষ্ঠিত রেভে জুনিয়র কাপ পাঁচ-সদস্যের টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে পেয়েছেন টপ স্কোরার ট্রফিও—যে তালিকায় আগে ছিলেন মেসুত ওজিল ও ডেনমার্কের তারকা জোনাস উইন্ডের মতো নাম।

ফারহান আলি ওয়াহিদের এই সাফল্য কেবল ইংলিশ ফুটবলে তার অগ্রযাত্রারই গল্প নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সম্ভাব্য এক সম্পদ হিসেবেও তাকিয়ে দেখছে দেশের ভক্তরা।