স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে চারটি আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। ফলে এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকছে না দলীয় প্রতীক। গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আইনের যে ধারাগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছিল সেগুলো আজকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। সে প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে। ফলে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার আর কোনো সুযোগ নেই। এখন থেকে প্রার্থীদের নিজস্ব প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো হবে।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্বাচন সংস্কার কমিশন এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন দল ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা দেখেছি যে বিগত সময়ে সরকারি দলের মার্কার বিশেষ সুবিধা এবং দলীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে অনেক হানাহানি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হয়েছে। মার্কার ভোটে অনেকে জিতে এসেছেন কিংবা গায়ের জোরে জিতে এসেছেন।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রত্যাশা করছি এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যখনই হোক যোগ্য প্রার্থীরা তাদের ব্যালটের মাধ্যমে জিতে আসতে পারবেন।
ব্রিফিংয়ে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, প্রেস সচিব শফিকুল আলম।