বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন না, এমনকি স্ট্যান্ডবাই তালিকাতেও নাম ওঠেনি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। অথচ সবার অলক্ষ্যে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার ফেরার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
ফরচুন বরিশালের হয়ে বিপিএলে বল ও ব্যাট হাতে পারফর্ম করেছিলেন সাইফউদ্দিন। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছিলেন, খেলেছিলেন চারটি ম্যাচে, নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। কিন্তু বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি। এরপর জাতীয় দল থেকেও যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন।
তবে বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পারফরম্যান্স ধরে রাখেন। সেই ধারাবাহিকতায় ফেরেন শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজেও ছিলেন দলে। নিজের ফিরে আসার গল্পটা জানাতে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন লিটনের প্রতি।
তার ভাষায়, ‘প্রথমত, ধন্যবাদ প্রাপ্য লিটন কুমার দাসের। এক মাস আগেও জানতাম না আমি আবার জাতীয় দলে খেলব। এমন কোনো স্বপ্নও ছিল না। কিন্তু হঠাৎ লিটন ভাই ফোন করে বলেন, তুই আমার দলের মেইন প্লেয়ার, সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত কর। এরপর থেকেই নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই এবং নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করি।’
সাইফউদ্দিন আরও বলেন, ‘অবশ্যই এর আগে শান্ত ভাই অধিনায়ক ছিলেন। হয়তো তার কাছ থেকেও যদি এমন উৎসাহ পেতাম, আরও ভালো করতে পারতাম। তবে লিটন ভাই যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, আমি তার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।’
এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ সামনে রেখে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের খোঁজে বাংলাদেশ দল। তানজিম সাকিবকে পরখ করা হলেও অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতার দিক থেকে এখনো সাইফউদ্দিনই এগিয়ে।
সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন ৩৫ রানের কার্যকরী ইনিংস, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেও ছিল বল হাতে অবদান—দুই ম্যাচে ৩ উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচে নেন ১ উইকেট।
নিজের সামর্থ্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সাইফউদ্দিন, ‘যখনই সুযোগ পাব, ব্যাটিং ও বোলিং দুটোতেই ভালো খেলার চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ, লিটন ভাই যেভাবে আস্থা রেখেছেন, আমি তার প্রতিদান দিতে পারব। ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমরা তরুণ দল হিসেবে জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছি। সামনে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ, এই জয়ের ধারা সেখানে কাজে দেবে।’