খুলনায় ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল দুই বছর। সেই দুই বছরের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ বছরে। তবু শেষ হয়নি কাজ। ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রায় তিন বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। ধুলাবালি-বৃষ্টিতে পিলার, বিম ও ছাদে ময়লা জমেছে। মরিচা ধরেছে রডে। ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করছে খুলনা জেলা পরিষদ। তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছে খুলনার নাগরিক নেতারাসহ সচেতন মহল।
জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার রূপসা স্ট্যান্ড রোডে জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজের জমিতে এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ১০ মার্চ। মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্ধিত এ মেয়াদেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে ফের দুই বছর সময় বাড়িয়ে মেয়াদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে বর্ধিত এ মেয়াদ শেষ হতে সময় বাকি মাত্র দুই মাস। অথচ ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি এ পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ। ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ করছে মেসার্স সহীদ ব্রাদার্স-স্মার্ট প্রপার্টিজ জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
গত ২২ জুলাই সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা অডিটোরিয়াম ভবনের প্রথম ও দোতলার ছাদের কাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয়তলার গ্যালারির টপ ছাদ ও বিমের কিছু কাজ হয়েছে। ইটের গাঁথুনি, পলেস্তারা, বৈদ্যুতিক কাজসহ অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে কাজটি দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। মালামাল চুরি ও লুটপাট হচ্ছে। অথচ কাজ শেষ হচ্ছে না। এর খেসারত তো জনগণকেই দিতে হবে। তাই জেলা পরিষদের উচিত দ্রুত প্রকল্পটি শেষ করা। অন্যথায় টাকাগুলোই জলে যাবে।
জানতে চাইলে এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ আসে। কিন্তু বরাদ্দ চাওয়া হলেও পাওয়া যায়নি। সে কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে ফের অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ পেলে কাজ শুরু করা যাবে। তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও ফের কাজ শুরু করতে পারবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম ছাড়াও মাঝারি আকারের আরও তিনটি মিলনায়তন হবে। যেখানে একসঙ্গে চারটি অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে। মিলনায়তনগুলো হবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।