অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘ভারত থেকে দেড় হাজার বাংলাদেশিকে পুশইন করার তথ্যটি সঠিক। বাংলাদেশের যেসব নাগরিক ভারতে রয়েছে তাদেরকে আমাদের নিতে হবে। সেটা ১০ কিংবা ২০ বছর পর হোক। আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে যেসব রোহিঙ্গাদের পাঠানো হয়েছে তাদের আমরা গ্রহণ করছি না। তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’
গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১-এর সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা ভারতকে বলেছি আমাদের কোনো নাগরিক যদি ওইখানে থেকে থাকে তাহলে নিয়মের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতে। যেমনটা আমরা ভারতীয়দের পাঠিয়ে থাকি। কিন্তু তারা নিয়মের মাধ্যমে না পাঠিয়ে নদীর পাড়ে জঙ্গলে ফেলে যায়, এটা গ্রহণযোগ্য না। আমরা এর প্রতিবাদ করে যাচ্ছি। তাতে কিছুটা কাজ হচ্ছে। পুশইনের সংখ্যা কমে আসছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়াসহ সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে এগুলো উদ্ধার করা হবে। এ কাজে রাজনৈতিক দলগুলোকে মূল ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য মাঠে থাকবে, আর আমাদের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি সত্য তুলে ধরেন তবে বিভ্রান্তি দূর হবে। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে সব তথ্য আসুক। গণঅভ্যুত্থানের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক মামলার তদন্ত এগিয়েছে। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনেককে আসামি করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরে আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনজনকে গ্রেপ্তার ও ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত টিম কাজ করছে। দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ অবহেলা করলে তাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’
আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো বিভেদ নেই : নারায়ণগঞ্জে স্বরাষ্ট্র উপদেস্টা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, , “সাংবাদিকরা সবসময় সত্য প্রকাশ করলে কখনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেটা সত্যিই শুধুমাত্র ওইটাই প্রকাশ করা হয়। এতে করে জনগণও সচেতন হবে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল থাকবেই যারা সবসময় প্রবলেম সৃষ্টি করবে। আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো বিভেদ নেই। আমাদের কাছ আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা। আর রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব জনগণের কাছে ভোট আদায় করা। বর্তমানে মিডিয়া এতো ভালো অবস্থানে আছে আপনারা সব জায়গার খবর সহজেই করতে পারছেন।”
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “
আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়া সকল অস্ত্রসহ সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এখনো আমরা সব অস্ত্র উদ্ধার করতে পারি নাই। আমরা এগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। বাকি অস্ত্র নির্বাচনের আগেই উদ্ধার হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আর নির্বাচনে বড় স্টেকহোল্ডার হচ্ছে রাজনৈতিক দল। তাদেরকে এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখতে হবে। নারায়ণগঞ্জে যথেষ্ট লজিস্টিক সাপোর্ট আছে। তারপরও যদি কোনো লজিস্টিক সাপোর্টের প্রয়োজন হয় আমরা আমরা এর ব্যবস্থা করে দিবো।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক মামলার অগ্রগতি শুরু হয়ে গেছে। তবে সমস্যা হয়েছে এসব মামলায় অগনিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। সেজন্য তদন্তকাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। নিরাপরাধ ব্যক্তিরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই লক্ষ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে র্যাব-১১ সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে জালকুড়িতে অবস্থিত ৬২ বিজিবি দপ্তর পরিদর্শনে যান উপদেস্টা।
পরিদর্শনকালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইসরাত জাহানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।