যোগ্যদের ফেল দেখিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার করে যোগ্য প্রার্থীদের ফেল করিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমান খানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (২৭ জুলাই) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুমিত্রা সেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছাড়াও রেজিস্ট্রার, কর্মকর্তা, সহকারী, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও অফিস সহায়কসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তারা নিয়োগের শর্ত লঙ্ঘন করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া প্রার্থীদের ফল পরিবর্তন করে পাস দেখান এবং তাদের নিয়োগ দেন। এ প্রক্রিয়ায় আসল মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হন।

এছাড়া, নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্রে ভুয়া স্বাক্ষর ও সুপারিশ সংযুক্ত করার মাধ্যমে দুর্নীতির অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অবৈধভাবে পাস করিয়ে যোগ্যপ্রার্থীকে নিয়োগ না দিয়ে ৩ থেকে ১৭ নম্বর আসামিদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

আসামিরা হলেন- সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমান খান, সাবেক রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার, শাখা কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দীন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুরাদ বিল্লাহ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট আনিসুর রহমান রিন্টু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল বাসার রিয়াজ, কম্পিউটার অপারেটর মো. মাসুদ রানা, কম্পিউটার অপারেটর শাহরীন ইসলাম মীম, ল্যাব টেকনিশিয়ান রীনা খাতুন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট এ বি এম আরিফুল ইসলাম তুরান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট মো. শহিদুল ইসলাম, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মো. আসিফ আহমেদ, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট দিদারুল আলম, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মো. হাবিবুর রহমান, অফিস সহায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, অফিস সহায়ক আছিয়া খাতুন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।