দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা ঘুচিয়ে হানাহ হ্যাম্পটনের ইউরোপ জয়‎

‎পেনাল্টি শুটআউটের সময় ইংল্যান্ডের গোললাইনটা যেন পরিণত হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রে। আর সেই যুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন যোদ্ধা, যিনি শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের শট ঠেকাতেই আসেননি, এসেছিলেন নিজের সীমাবদ্ধতাকেও জয় করতে। নাম তার হানাহ হ্যাম্পটন — যিনি আংশিক দৃষ্টিশক্তি নিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন দ্বিতীয় ইউরো শিরোপা।

‎মাত্র ৩ বছর বয়সে হানাহের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা ধরা পড়ে। Strabismus নামে এক চোখের ভেতরের পেশীতে জন্মগত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাকে চোখে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সেই ছোট্ট হানাহকেই বলা হয়েছিল, হয়তো আর কখনো স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারবে না। কিন্তু হানাহ থেমে থাকেননি।

‎‎ম্যাচের মূল ঘটনাপ্রবাহ

‎স্পেন প্রথমে এগিয়ে যায় ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মারিওনা কালদেনতের চমৎকার হেডে। ইংল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে এসে ৫৭তম মিনিটে আলেসিয়া রুসোর হেডে গোল করে সমতা ফেরায়।
‎‎৯০ মিনিট শেষে ১-১ গোল সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দল গোল করতে না পারায় ফাইনালের নিষ্পত্তি ঘটে পেনাল্টিতে।

ইউরো জয়

পেনাল্টিতে উত্তেজনার চূড়ান্ত

‎ইংল্যান্ডের প্রথম শটেই বেথ মিড গোল করলেও ডাবল টাচের কারণে তাকে পুনরায় নিতে হয় — যেখানে কাটা কোল সেভ করেন। এরপরই পাল্টে যায় ম্যাচের গতি।

‎হানাহ হ্যাম্পটন ছিলেন অন্য ভাবনার। স্পেনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায়। পুরো স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে যখন হানাহ নিজের হাত দু’টি আকাশে তুলে ইংল্যান্ডকে ফিরিয়ে আনলেন জয়ের লড়াইয়ে।

‎বিশ্বকাপ ২০২৩ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল লায়নেসরা, আর এই ম্যাচে তারা সেটা দারুণভাবে করে দেখালো।