একজন ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার প্রস্তাবে একমত

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পক্ষে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ ছাড়া স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনেও ঐকমত্য হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনের সংলাপের পর তিনি এ কথা জানান।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর উল্লেখ করব। এ বিষয়ে আমরা কি একমত হয়েছি? এতে সবাই হ্যাঁ-সূচক জবাব দেন।

বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এলডিপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বৈঠকে অংশ নেন।

এর আগে সকালে সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। সেটা আগামীকাল (আজ) সোমবারের মধ্যে সবকটি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে। দলগুলো দ্রুত মতামত দিলে সেটা সন্নিবেশিত করা হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ-সম্পর্কিত মূলনীতি এবং পুলিশ কমিশন গঠন-সংক্রান্ত প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রধান উপদেষ্টার জানানো উচিত বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা সবসময় দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছি লন্ডনে বৈঠকের পর প্রতিশ্রুত এবং সম্মত দিন-তারিখ-মাস, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার জানানো উচিত অথবা তার অফিস থেকে। বিএনপির এ নেতা বলেন, সেটা (প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা) যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেরা নিজেরা যা-ই আলোচনা করি, অথবা প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করুন বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করুন, সেটা নির্বাচন কমিশনের জন্য গুরুত্ববহ হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সেটা তখনই নির্দেশনা বা অনুরোধ হিসেবে মেনে নেবে, যখন অফিশিয়ালি সেই কমিউনিকেশন বা মেসেজ যাবে। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনুরোধপত্র পাবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সেটার (প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা) জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সেটা আগামী ১০ দিনের মধ্যে দিতে পারেন বলে কয়েকজন রাজনীতিবিদ বলেছেন। কিন্তু সেটা হচ্ছে প্রেসের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের কথা। কিন্তু এটা ইফেকটিভ হবে যখন প্রধান উপদেষ্টা অফিশিয়ালি ভাষণ দিয়ে জাতিকে জানাবেন এবং সেটা নির্বাচন কমিশনকে কমিউনিকেট করবেন।

                        সব দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নির্বাচন দিলে গ্রহণযোগ্য হবে না : আখতার

সব দলের সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচন দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এর আগে লন্ডনে বসে যখন একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। যদি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করে সরকার নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়, সেটা যে গ্রহণযোগ্য হবে না, সেটা বলার অবকাশ রাখে না।

আখতার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যারা বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই যদি সরকার নির্বাচনের মতো বিষয়কে খোলাসা করতে শুরু করে, এটাকে যদি সুনির্দিষ্ট করতে শুরু করে, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি আমরা পুনর্বিবেচনা করব। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে এরকম একটা টাইমলাইন অনেক আগেই বলেছেন। আমরা মনে করি এই টাইমলাইনের মধ্যেই বিচার-সংস্কার দৃশ্যমান পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সেই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন হতে পারে।

এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেন, সরকার যদি একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে বা এক দলের সঙ্গে কথাবার্তা বলে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করে তাহলে বাংলাদেশের বাকি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনের আগে বিচার-সংস্কারকে দৃশ্যমান পর্যায়ে উন্নীত করা, জুলাই সনদ, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা, নির্বাচনের জন্য মাঠপ্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং একই সঙ্গে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ঘোষণার দিকে যেতে হবে। অবশ্যই জুলাই সনদ এবং জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে।

আখতার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে যায় এরকম সুপারিশে আমরা একমত হতে পারি, তাহলে জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।