নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ভারী বর্ষণ,অমাবস্যার প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, অমাবস্যা ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন প্রায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলোচ্ছ্বাসে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বেড়িবাঁধের বাইরের মানুষ। জোয়ারে নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, মৌলভীরচর তেইল্লারচর, নলচিরা, চরঈশ্বর, হরনী, সোনাদিয়া ও সুখচর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরের অধিকাংশ এলাকা সম্পূর্ণ ডুবে যায়। এসব এলাকায় জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের। কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে আছে। সুখচর ছাড়াও নলচিরা, চরঈশ্বর ও নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদেও পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ না থাকায় উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নিঝুমদ্বীপ, দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর এই চরাঞ্চলগুলোও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব চরে বসবাসকারী লাখো মানুষ এখন বিপদাপন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোনাদিয়া ইউনিয়নের জেলেপল্লীর জামাল উদ্দিন বলেন, শুধু চাই একটি বেড়িবাঁধ যাতে অন্তত পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারি।
সোনাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চরচেঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মন্নান বলেন, উপকূল উন্নয়নে স্রেফ মানবিক সহানুভূতি বা বার্ষিক বরাদ্দ নয় দরকার টেকসই বেড়িবাঁধ।
নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুর উদ্দিন বলেন, জোয়ারে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লোনা পানি প্রবেশ করে কৃষি জমি ও মাছের ঘের নষ্ট হয়েছে। এছাড়া নদীভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।
হাতিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল জোয়ারে নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া, আল-আমিন গ্রাম, সোনাদিয়া ইউনিয়নের হৈকবাধা মাইজচরা, চরঈশ্বর ইউনিয়ন, হরণী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় প্রায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, হাতিয়ার বেশকিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করা হয়েছে এবং পানিবন্দী মানুষের মাঝে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।