ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় দরপত্র জমাদানে বাধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার ও রাস্তা ঝাড়ুর কাজের জন্য আহ্বানকৃত দরপত্র জমা দিতে এসে বাধার মুখে পড়েছেন এক ঠিকাদার। অভিযোগ উঠেছে, তাকে জোরপূর্বক দরপত্র জমা দিতে বাধা দেন এবং ছিনিয়ে নিয়ে খাম খুলে ফেলা হয়।

সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পৌর প্রশাসক দরপত্র জমাদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য গত ৯ জুলাই দরপত্র আহ্বান করে পৌরসভা। ২৭ জুলাই ছিল দরপত্র বিক্রির শেষ দিন এবং ২৯ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত ছিল জমাদানের সময়সীমা। ছয়টি দরপত্র বিক্রি হলেও জমা পড়ে মাত্র তিনটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার তিনজন জানান, এদিন দুপুরে দরপত্র জমা দিতে আসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেসার্স সুপার ক্লিন বিডি লিমিটেড-এর মালিক রাজু চন্দ্র সিং। এসময় নিচতলায় দরপত্র বাক্সের পাশে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার তার পরিচয় জেনে তাকে বাধা দেন এবং দরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে খুলে ফেলেন। একপর্যায়ে তাকে জোর করে পৌর ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়।

শহর থেকে বের হয়ে রাজু বিষয়টি পৌরসভার প্রশাসক ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কাউসারকে অবগত করেন। ভৈরবের ওই ঠিকাদার রাজু সিং জেলার নবীনগর পৌরসভায় একই কাজ করছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় দরপত্র জমা দিতে কে বা কারা বাধা দিয়েছেন তা জানা যায়নি। কারণ পৌরসভার লোকজন এ বিষয়ে কোনো কথাই বলছেন না।

রাজু চন্দ্র সিং বলেন, ‘দুপুর একটায় দরপত্র জমা দিতে যাই। দুইজন লোকজন আমাদের পথরোধ করে সেখানে যাবার কারণ জানতে চান। কাজটি তারা করবেন এবং আমাদে দরপত্র জমা দিনে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে আমার কাছ থেকে দরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে খাম খুলে সকল কিছু দেখেন। দরপত্র ফেরত চাইলেও তারা দেনননি। সমস্যা হতে পারে ভেবে সেখান থেকে দরপত্র ছাড়াই আমি চলে আসি। বিষয়টি আমি পৌর প্রশাসককে মুঠোফোনে অবগত করেছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, একজন দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। দরপত্রের সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।