নিউ ইয়র্কে বন্দুক হামলায় বাংলাদেশি অভিবাসী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি বহুতল অফিস ভবনে বন্দুকধারীর হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত পুলিশ সদস্য বাংলাদেশি অভিবাসী বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস। সন্দেহভাজন বন্দুকধারী পরে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়িতে একটি এম-ফোর রাইফেল এবং গুলিবিদ্ধ ম্যাগাজিনসহ একটি রিভলবার পাওয়া গেছে। তার নেভাদা রাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে নিষ্ক্রিয় করার পর ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ। তবে কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই বন্দুকধারী ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত। পরে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহত পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম নিউ ইয়র্কবাসীকে রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা একজন অভিবাসী এবং এই শহরকে ভালোবাসতেন। আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাই বলেছেন যে তিনি একজন ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন এবং সৎ জীবনযাপন করতেন। এ সময় মেয়র আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। যেভাবে নিউ ইয়র্ক পুলিশের প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন, তিনিও সেভাবে অন্যদের নিরাপত্তা দিতেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, দিদারুলের স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তাদের দুই সন্তান আছে।

দিদারুল ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে এনওয়াইপিডির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিনক্টে কর্মরত ছিলেন। সোমবার তিনি দায়িত্বরত ছিলেন না। তবে রুডিন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে ওই ভবনে কাজ করছিলেন। তখন তিনি এনওয়াইপিডির ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টের কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির আগে সন্দেহভাজন ঘাতক শেইন তামুরা ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন। এই হামলার ঘটনায় আরও তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং একজন আহত হন। আহত ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বন্দুকধারী তামুরা হামলার পর আকাশচুম্বী ভবনটির ভেতরে লুকিয়ে থাকেন। পরে ৩৩ তলায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।