চট্টগ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ-গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে রাউজান উপজেলা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবারের (২৯ জুলাই) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই আজ বুধবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের করেনি। এ অবস্থায় বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেল চারটায় উপজেলা সদরের মুন্সির ঘাটায় বিক্ষোভ করেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে গোলাম আকবর খোন্দকার পক্ষের অনুসারীরা চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন উপজেলার বাসিন্দারা। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “বিএনপির দুই পক্ষের হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ মামলা করেনি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি। মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সত্তারঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ছররা গুলিতে আহত হন গোলাম আকবর খন্দকার নিজেও। গিয়াস উদ্দিন কাদেরের নির্দেশে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ গোলাম আকবর খোন্দকারের। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন।
সংঘর্ষের পর গতকাল রাতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাত আটটার দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক চিঠিতে কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। আরেকটি চিঠিতে স্থগিত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদও।
মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়ে গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তিনি নিজেও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার পা ভেঙে দিয়েছেন গিয়াস কাদেরের লোকজন। গোলাম আকবরকেও তারা গুলি করেছেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী এবং উপজেলা বিএনপির প্রচার বিভাগের আহ্বায়ক কাজী সরোয়ার খান বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আজ বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে অপপ্রচারের জবাব দেওয়া হয়েছে।”